চুয়াডাঙ্গায় বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ, তীব্র গরমে হাসফাঁস জনজীবন , সন্ধ্যায় এক পশলা বৃষ্টিতে স্বস্তি

স্টাফ রিপোর্টার


তীব্র তাপদাহ আর ভ্যাপসা গরমে চুয়াডাঙ্গার ¯^াভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে| সকাল গড়াতেই সূর্যের তীব্রতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি হচ্ছে প্রকট| তীব্র গরমে স্থবির হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের কর্মজীবন| জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ| তবে অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ ধেয়ে আসা দমকা হাওয়া আর এক পশলা বৃষ্টিতে জেলাবাসীর জনজীবনে ¯^স্তি ফিরে এসেছে| এর আগে বেলা ৪টা পর্যন্ত প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ চরম হাঁসফাঁস অবস্থার মুখোমুখি হন|
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সে সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৮ শতাংশ| বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের তীব্রতা আরও বাড়ে| বিকেল ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৬০ শতাংশ| আবহাওয়াবিদদের মতে, তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রির কাছাকাছি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি (৬০% – ৬৮%) থাকায় ভ্যাপসা গরম ও অ¯^স্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে| শরীর থেকে অনবরত ঘাম ঝরছে, ফলে অল্প পরিশ্রমেই মানুষ ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে| তীব্র গরমের কারণে দুপুরের দিকে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে লোকসমাগম অনেকটাই কমে যায়| অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না| সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা|
শহরের ভ্যানচালক সিদ্দিক হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, বাইরে বের হলেই শরীর দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছে| বাতাসেও কোন ¯^স্তি নেই শুধু গরম অনুভূত হচ্ছে| কিন্তু পেট চালাতে তো বাইরে আসতেই হবে| আর এরকম গরমে যাত্রীও খুব একটা নেই বললেই চলে| তাও জীবিকার তাগিদে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি|
অন্যদিকে, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা হিট স্ট্রোক বা ডায়রিয়ার মতো গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন| স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চর্মরোগ ও ডিহাইড্রেশনের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে| চিকিৎসকরা এই গরমে প্রচুর পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার খাওয়ার পাশাপাশি রোদে সরাসরি কাজ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন|

এদিকে দুপুরের সেই তীব্র গরমের পর সন্ধ্যার দিকে চুয়াডাঙ্গার আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দেয়| কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় ধূলিঝড়, আর তার পরপরই নামে বৃষ্টি| এই এক পশলা বৃষ্টিতে মুহূর্তেই শীতল হয়ে আসে চারপাশ, এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায় তাপমাত্রা| এতে জনজীবনে কিছুটা হলেও ¯^স্তি ফিরে আসে|
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে| তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং কিছু কিছু সময় জেলায় দমকা হাওয়াসহ বজ্র বৃষ্টি হতে পারে|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।