স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় গত কয়েকদিন ধরে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যহত রয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গতকাল জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা দেশের সর্বোচ্চ। এ নিয়ে টানা ৩ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। এদিকে এই অসহনীয় গরমে জীবনযাত্রায় পড়েছে বিরূপ প্রভাব।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। গতকাল শনিবার দুপুর ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ২৬ শতাংশ। এতে করে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন আরও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এদিকে দুপুর ১২টায় জেলা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আদ্রতা ছিল ৩১ শতাংশ। এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
তীব্র রোদ আর গরমে সবথেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে ভ্যান চালক, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের কষ্টের সীমা নেই। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে পথচারীদের ছাতা ও মাথায় কাপড় ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তীব্র গরমে কদর বেড়েছে ডাব, তরমুজ ও ঠান্ডা পানীয়র। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে আখের রস ও শরবতের দোকানে ভিড় করছেন তৃষ্ণার্ত মানুষ।
ফুটপাতে শরবত বিক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরম পড়ছে। এই গরমকে কেন্দ্র করেই শরবতের ব্যবসা খুলেছি। বিভিন্ন মৌসুম ভেদে নানান রকম ব্যবসা করে থাকি। কিন্তু এই তীব্র গরমে মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না যাতে করে বেচাকেনা খুবই কম। তবে বিকালের দিকে বেচাকেনা একটু বৃদ্ধি পায়। গরমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শরবত বিক্রি করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের এই সময়ে বাড়তি সতর্কতায় থাকার কথা বলা হয়েছে।
টানা তিন দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যহত, জনজীবনে স্বস্তি নেই



