স্টাফ রিপোর্টার
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে চলছে ব্যাপক জ্বালানি সংকট। তারই পরিপ্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। প্রথম দিনেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফুয়েল কার্ডের আবেদন জমা পড়েছে ৭ হাজার এবং ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে ৩ হাজার। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে সকাল ৬ টা থেকেই লাইনে দাঁড়ায় হাজার হাজার গ্রাহক। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফুয়েল কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাও করতে হয় তাদের। এই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে কার্ড না পেয়ে অনেক গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফুয়েল কার্ড নিতে এসে গ্রাহকদের লাইনে দাড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাদের দাবি এ কার্ড বিতরণ অনলাইন ও ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করলে এ লাইনে থাকা গ্রাহকদের ভোগান্তি থাকবে না। তবে আজ মঙ্গলবার থেকে স্ব স্ব উপজেলায় ফুয়েল কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে এবং সেখান থেকে কার্ড বিতরণ করা হবে। এদিকে গতকাল সোমবার যারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন, তাদের ফুয়েল কার্ড জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দেয়া হবে বলে জানান, ভিজিলেন্স টিমের প্রধান অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান।
গত রবিবার জেলা প্রশাসনের এক সভায় জানানো হয়, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ শুরু হবে। কার্ড সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। আগামী ১লা এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র ফুয়েল কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল প্রদান করা হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি চলবে। তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে এসে মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, সেই সকাল ৮ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফুয়েল কার্ড নিতে এসেছি। দীর্ঘক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা ১১ টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তবে এখন সন্ধ্যা ৬টা বাজতে চললেও আমি আমার বহু কাংখিত ফুয়েল কার্ডটি পাইনি। এই তীব্র গরমে সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকে আমি আমার কার্ডটি না পেয়ে খুবই হতাশ। আগে তেল পাম্পে গিয়ে লাইন দিতে হতো এখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এসেও লাইন দিতে হচ্ছে। উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হলে আমাদের এই ভোগান্তি একটু হলেও লাঘব হতো।
আরেক গ্রাহক মোবারক হোসেন বাবু বলেন, সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে ফুয়েল কার্ড নেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। গাড়ির কাগজপত্র জমা দিলে কার্ড দিচ্ছে। এই ভাবে লাইনে দাড়িয়ে জনগণের হয়রানি হয়ে যাচ্ছে। এটা যদি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে হতো। তাহলে সবার জন্য সুবিধা হতো। কার্ড নিতে এসে এই লাইনে দাঁড়ানো খুব কষ্ট। সারাদিন না খেয়ে এই ফুয়েল কার্ডটির অপেক্ষায় ডিসি অফিস চত্বরে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা সাধারণ জনগণ আমাদের ভোগান্তি সব সময় থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান বলেন, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানী সংগ্রহ শুরু হলে তেলপাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা রোধ করা যাবে। এমনকি কালোবাজির চেষ্টা যারা করছে তাদেরও নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। তিনি আরো বলেন গতকাল সোমবার সারা দিনে ৭ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করছি। গতকাল ৩ হাজারের মত কার্ড আমরা বিতরণ করেছি। বাকী কার্ড আজ মঙ্গলবার বিতরণ করা হবে।
ফুয়েল কার্ড’ সংগ্রহে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে হাজারো মানুষের দীর্ঘ লাইন



