দামুড়হুদার শীবনগরে বাগানের গাছ কাটার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

দামুড়হুদা অফিস
দামুড়হুদা উপজেলার শীবনগর গ্রামে বাগানের গাছ কেটে লুটপাট ও বাগান মালিক বাহালুল হককে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শীবনগর গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাগান মালিক বাহালুল হক জানান, দামুড়হুদা উপজেলার চন্দ্রবাস গ্রামের মরহুম মওলা বক্সের ছেলে তিনি। শীবনগর ডিসি ইকো পার্কের সামনে ক্রয়সূত্রে তার বাবার ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর একটি আমবাগান রয়েছে। গত সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার বাগানে অনধিকার প্রবেশ করে ১১০টি গাছ কেটে নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন আমগাছের ডাল কেটে ক্ষতিসাধন করে। এতে প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, কাটা গাছগুলোর মধ্যে ছিল ১৫টি মেহগনি, ৫টি লম্বু, ১৮টি কচালম্বু, ২টি একাশি এবং ৭০টি বাঁশ গাছ, যার মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এছাড়া আমগাছসহ বিভিন্ন গাছের ডাল কেটে আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় একই দিন ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরদিন মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাদের আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোর্টের ৪৪৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বাহালুল হক অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তার বাড়িতে গিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ কারণে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িতে থাকতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে কথিত এক পীরের মাজার আছে বলে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং গত ২০ বছরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে ২০টিরও বেশি মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তবে এসব মামলায় তিনি ইতোমধ্যে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, পীর একদিল শাহের প্রকৃত মাজার আলমডাঙ্গা থানার দক্ষিণ গোবিন্দপুর ও বেতবাড়িয়া গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত এবং প্রতি বছর সেখানে ওরস অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু জমি দখলের উদ্দেশ্যে শীবনগরে নতুন করে কথিত মাজার তৈরি করা হয়েছে। এছাড়ারও তিনি প্রসাসনের নিকট সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রউফ, আল-আমিন, হায়াত আলী, আব্দুল হাকিম, সরোয়ার হোসেন, বাবর আলী, কাবাতুল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।