মৌসুমের প্রথম ঝড়ে জীবননগরে ফসলের মাঠ ক্ষতিগ্রস্থ, চাষীদের মাথায় হাত

জীবননগর অফিস
মৌসুমের প্রথম ঝড়ে উঠতি ফসলের হয়েছে ক্ষতি। কলা বাগান, ভুট্ট ক্ষেত ও সুর্য মুখী ফসলের ক্ষেত ঝড়ের আঘাতে হয়েছে লন্ডভন্ড। ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।  ফাগুনের মাঝামাঝি হতে প্রকৃতি বিরুপ আচরণ করতে থাকে। প্রতিদিনই মনে হতো এই বুঝি বৃষ্টি এলো। আকাশ থাকতো থমথমে। রোদের প্রখরতা তেমন থাকতো না। ফাগুনের শেষে হলো ভালোই ভালোই। চৈত্রের প্রথম দিনেই ঝড়ের আঘাত হানে জীবননগর উপজেলায়। মৌসুমের প্রথম ঝড়ের আঘাতে উঠতি ফসলের হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি। ঝড়ের আঘাতে কলা বাগান, ভুট্টা ক্ষেত, সূর্য মুখী ফসল ও সজিনা ডাটা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কেডিকে ইউনিয়ন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ও উথলী ইউনিয়ন এলাকায় ব্যাপক হারে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হয়ে থাকে। এ কলা এলাকার চাহিদা পূরণ করেও বাইরের জেলা গুলিতে পাঠনো হয়। বিভিন্ন এলাকার পাইকারী কলা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কলা কিনে নিয়ে যায়। চৈত্রের প্রথম দিনের ঝড়ে এলাকার কলা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উথলী গ্রামের শিক্ষিত সচেতন চাষী রতন মিয়া দেড় বিঘা জমিতে চাপা কলা চাষ করেছেন। কলা বিক্রি যোগ্য হয়েছে। রবিবারেই কলা ক্ষেতের দাম বলেছে পাইকাররা ৮৫ হাজার টাকা। রতন মিয়া এক লক্ষ ১০ হাজার হলে বিক্রি করবেন এমন ইচ্ছে ছিলো। রবিবার রাতে ঝড়ের আঘাতে কলার ক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে যায়। তিনি বলেন, এখন হয়তো ৩০ হাজার টাকায় কলার ক্ষেত বিক্রি হতে পারে। এমনি ভাবে কলা চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বছরের প্রথম ঝড়ে। ভুট্টা ক্ষেতের ভুট্টা গাছ ভেঙ্গে গেছে,হেলে পড়েছে, আবার কোন কোন ক্ষেতে গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। ভুট্টারও ক্ষতির আশংকা রয়েছে। সজিনা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছের ডাল ভেঙ্গে গিয়েছে।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আলমগীর হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা ঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির একটা রিপোর্ট তৈরী করে জেলায় পাঠিয়েছি। তবে ক্ষতির প্রকৃত হিসেব পেতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।