দর্শনা অফিস
দর্শনায় এসির তার কাটার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক যুবককে ধরে নিয়ে মারধর, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দর্শনা থানা যুবদলের এক নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মারধরের সময় অভিযুক্তদের একজন নিজেকে প্রভাবশালী দাবি করে বিভিন্ন ধরনের দম্ভোক্তি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর (উত্তরপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা শিউলী খাতুন (৩৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে দর্শনা পুরাতন বাজার এলাকার একটি বাড়ির এসির তার কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জেরে সন্দেহভাজন হিসেবে শ্যামপুর গ্রামের যুবক মো. ইমন (১৯)-কে ডেকে নেয় অভিযুক্তরা। সে সময় ইমন তার দাদা ফয়েজ উদ্দীনের চায়ের দোকানে কাজ করছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।
পরিবারের অভিযোগ, পরে তাকে একটি বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে ঘাড়, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দোষ স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়।
এ সময় ইমনের কাছে থাকা একটি পোকো সি ৫৫ মডেলের মোবাইল ফোন ও নগদ ২ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতনের একটি ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবারটি। এতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে দর্শনা থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. টুটুল শাহ (৪৬), মো. রুবেল শাহ (৩৮), মো. বকুল শাহ (৪৫) ও মো. নাঈম শাহ (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই দর্শনা পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দীন (৬৫) বলেন, ছেলেটিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রয়েল বলেন, নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুনেছি। এতে ছেলেটি ও তার পরিবার সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
অভিযোগকারী শিউলী খাতুন বলেন, আমার ছেলেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং জোর করে দোষ স্বীকার করানো হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, একটি সাধারণ অভিযোগকে কেন্দ্র করে একজন যুবকের ওপর হামলা ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দর্শনায় সন্দেহের জেরে যুবকের ওপর নির্যাতন!



