জীবননগরে পাম্পগুলোতে ঝুলানো হয়েছে ডিজেল নেই ধান চাষে ফলন বিপর্যয়ের আশংকায় চাষীর ঘুম হারাম

জীবননগর অফিস
জীবননগরে ডিজেল তেল নিয়ে চাষীদের মাঝে দেখা দিয়েছে হা হা কার। ধান চাষে ফলন বিপর্যয়ের আশংকায় চাষীর ঘুম হয়েছে হারাম। কোন পাম্পেই নেই ডিজেল। পাম্পে ঝুলানো হয়েছে ডিজেল নেই। শুরু হয়েছে মরার ওপর খাড়ার ঘা। পাম্প মালিকেরা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন রেখেছে বন্ধ। জীবননগর উপজেলা কৃষি নির্ভর সমৃদ্ধ একটি জনপদ। এ অঞ্চলের জমি অত্যন্ত উর্বর। এখানে সব ধরনের ফসল ফলে। বিশেষ করে ধান উৎপাদনের জন্য এ অঞ্চলকে বলা হয় শষ্য ভান্ডার। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ধানের খেতে বিকালে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রাণ ভরে যায়। সবুজে সবুজে ধানের গাছে ভরে গেছে মাঠের পর মাঠ। ধানের খেত পরিচর্যায় কৃষক ব্যস্ত। ধানের ফলন ভালো হলে নতুন ধান উঠার সাথে সাথে কৃষকের মুখেও হাসির ঝিলিক দেখা যায়। বীজতলা থেকে শুরু করে কঠোর নিরলোস পরিশ্রম করার পর পাকা ধান কৃষক ঘরে তোলে। সার বীজ সেচ নিড়ানিসহ সমন্বনিত ভাবে সুষম প্রয়োগের মধ্যদিয়ে ভালো ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়। একটির ঘাটতি হলে ফলন বিপর্যয় ঘটে। উপজেলারে যেদিকে তাকানো যায় ধান গাছের সবুজ সমারেহ। সেচ দিতে পারছেন না চাষীরা। তেল পাচ্ছেন না প্রয়োজন মতো। কোথাও ডিজেল নেই। চাষীদের মাঝে হা হা কার দেখা দিয়েছে। দু’লিটার ডিজেলের জন্য কন্টিনার হাতে করে ঘুরছেন এক পাম্প থেকে অন্য পাম্প। কোথাও মিলছে না তেল। পাম্পে ডিজেল নেই ব্যানার ঝুলানো হয়েছে।
নারায়নপুর গ্রামের চাষী মিনজুল হক জানান, ধানের খেতে সেচ দেওয়ায় জন্য ডিজেল পাচ্ছিনে। সেচ দিতে না পারলে জমি ফেটে যাবে। ফলন কুমে যাবে চাষে লস হবে। ঘোষ নগর গ্রামের কৃষক আলী কদর জানান, তাঁর প্রতিদিন দেড় লিটার ডিজেল দরকার। তেল নেওয়ায় জন্য বোতল হাতে করে ঘুরছেন কোথাও তেল পাচ্ছেনা।
জীবননগর ফিলিং স্টেশনের মালিক মাসুদুর রহমান জানান, আমরা রেসনিং পদ্ধতিতে তেল পাচ্ছি। আমার গাড়ির তেল ধারণ ক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০০ শত লিটার। গত ১২ মার্চ ডিজেল পেয়েছি ৮০০০ লিটার এবং পেট্রোল ২০০০ লিটার পেয়েছি। বরাদ্দকৃত তেল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। অর্ধেক তেল ভর্তি গাড়ির ভাড়া এবং তেলে ট্যাংকি ভরা গাড়ির ভাড়া একই। অর্ধেক তেল এনে গাড়ি ভাড়া দিয়ে লোকসান হচ্ছে। কৃষকের কাছে ৩০০ টাকার ডিজেল এবং মটর সাইকেলের নিকট ২০০ টাকার পেট্রোল বিক্রয় করা হচ্ছে। নরমালই এখানে প্রতিদিন ডিজেলে চাহিদা ৪০০০ থেকে ৪৫০০ লিটার।
উৎসব ফিলিং স্টেশনের মালিক খলিলুর রহমান জানান, গত ১১ মার্চ বুধবার ৯০০০ লিটার ডিজেল এবং ২০০০ লিটার পেট্রোল পেয়েছেন। ডিজেল বুধবার রাতেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। ডিপো থেকে পাম্প মালিকেরা তেল উত্তোলন শনিবার থেকে বন্ধ রেখেছেন। পাম্প মালিকদের দাবি পুরো গাড়ি তেল দিতে হবে। নয়তো অর্ধেক তেল নিয়ে গাড়ি ভাড়া দিয়ে লোকসান হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ধানের জমিতে সেচের বিষয়ে আমরাও চিন্তায় আছি। বড় চাষীরা প্রয়োজন মতো ডিজেল সংগ্রহ করে রেখেছে। বিপদে পড়ছে ছোট ও প্রান্তিক চাষীরা । তারা ডিজেলের অভাবে ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছে না। যদি এমন হয় তাহলে ধান উৎপাদনে ফলন বিপর্যয় হতে পারে। ১৫ মার্চ রবিবার জেলায় মিটিং আছে সেখানে ডিজেলের বিষয়ে আলোচনা হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।