গাংনীতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় হামলা অবরুদ্ধ এমপি, ইউএনও ও ওসি : সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

মেহেরপুর অফিস
গাংনী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এক জামায়াত নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সভাকক্ষে হামলা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এতে সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মুহা: আলম হুসাইন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নেন। সভা চলাকালে দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। তারা আলম হুসাইনের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদী সম্পৃক্ততা’র অভিযোগ তুলে তাকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং কয়েকজন চেয়ার তুলে মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাকালে সভায় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের এমপি ও জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস এবং বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিজিবি ও র‌্যাবের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরিস্থিতি অবনতির একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং সভাকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
ঘটনাটিকে ‘ন্যাক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আজ যা ঘটেছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য কলঙ্কজনক।
এদিকে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু ও পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল মেঘলা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে সভায় উপস্থিত ইউএনও আনোয়ার হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সভার সমাপনী বক্তব্যে ইউএনও আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সবাই মিলে এ উপজেলাকে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাখতে কাজ করব। সভায় উপস্থিত সদস্যরা হাত তুলে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউএনও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনও যদি অভিযোগ দায়ের করেন, তবে তা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।