রকিবুজ্জামান, জীবননগর
জীবননগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ব্যাপকভাবে ভুট্টা চাষ হয়েছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজ ভুট্টার সমাহার। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ভূট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। লাভজনক হওয়ায় ধানসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী ফসলের পরিবর্তে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এতে কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
একসময় এ অঞ্চলের কৃষিকাজ ইরি-বোরো ও আমন ধান এবং সীমিত পরিসরে শাকসবজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে আধুনিক চাষ পদ্ধতি, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে ভুট্টা এখন জীবননগর উপজেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৩১৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বছরে ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলার কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “আমি ২ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রতি বিঘায় ৪৫ থেকে ৫০ মণ ফলন আশা করছি। এতে ২ বিঘা জমি থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।” অপর কৃষক কারিবুল জানান, “আমি হাইব্রিড ৩৩৫৫ জাতের ভুট্টা ৩ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। এতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। প্রতি বিঘায় ৪৫-৫০ মণ ভুট্টা পাওয়া গেলে বাজার ভালো থাকলে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব।”
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, নভেম্বর-ডিসেম্বর এবং মে-জুন মাসে ভুট্টা চাষ করা হলেও শীত মৌসুমে ফলন বেশি হওয়ায় এ সময় চাষে কৃষকদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। কৃষকদের মতে, একই জমিতে ধান চাষ করে যেখানে ২৫-৩০ মণ ফলন পাওয়া যায় এবং লাভ থাকে প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যে, সেখানে ভুট্টা চাষে ফলন বেশি থাকে লাভের অংকটা অনেক বেশি। গত মৌসুমে ভুট্টার ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
জীবননগরে ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের আশা, কৃষকদের মুখে হাসি



