স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সভায় কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ধান, সবজি, মাসকলাই ও অন্যান্য ফসলের আবাদ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ডিলারগণকে বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলণপূর্বক নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের বিতরণ করতে হবে। কোন তামাক চাষীগন কৃষক বলে গণ্য হবে না এবং তারা সারে কোন প্রকার ভর্তুকি পাবে না।
জানা যায়, চলতি মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ইউরিয়া সার বরাদ্দ করা হয় ৫ হাজার ৯৬৪ মেট্রিক টন। বর্তমানে ইউরিয়া সার মজুদ আছে ৪ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন। টিএসপি সার বরাদ্দ করা হয় ২ হাজার ৪২ মেট্রিক টন। বর্তমানে টিএসপি সার মজুদ আছে ৮৮৩ মেট্রিক টন। ডিএপি সারের বরাদ্দ করা হয় ৩ হাজার ২৪৬ মেট্রিক টন। বর্তমানে ডিএপি সার মজুদ আছে ৮১২ মেট্রিক টন। চলতি মাসে এমওপি সারের বরাদ্দ করা হয় ১ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন। বর্তমানে এমওপি সার মজুদ আছে ১ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন।
সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, বর্তমানে সারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম। কৃষকেরা বাংলাদেশে উৎপাদিত টিএসপির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। টিএসপি ও ডিএপি সারের মূল উপাদান ফসফেটের অনুপাত ৪৬ শতাংশ। তারপরেও কৃষকেরা ডিএপি না নিয়ে টিএসপি সার বেশি নিচ্ছে। এতে করে টিএসপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদেরকে সকল প্রকার সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা যাতে পরিপূর্ণ সার পায় তার জন্য কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলারদের যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সার বিতরণের সময় যাতে কোন রকম অনাকাংখিত ঘটনা না ঘটে তার জন্য গ্রাম পুলিশ ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সহযোগিতা প্রয়োজন। জেলার কোন তামাক চাষী স্যারের ভর্তুকি পাবেন না। প্রতিবছর সরকার সারে ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। যদি কোন তামাক চাষী সার কিনতে চায় তাকে ১০৪ টাকা কেজি সার কিনতে হবে। তাছাড়া সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যারাই সাজাপ্রাপ্ত হবেন তাদের ডিলারশিপ বাতিলের জন্য প্রস্তাব পেশ করা হবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষ্ণ রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রিফাত আরা, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার মোঃ নুরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি ও জেলার বিএডিসি ও বিসিআইসি সার ডিলারগণ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত



