চুয়াডাঙ্গায় সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার
“জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে” এই প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গায় সপ্তাহব্যাপী নজরুল বর্ষের পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকাল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে গত ২৫ অক্টোবর সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসবের উদ্ধোধন করা হয়
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ। পরে প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথি বৃন্দদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়।
এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও গীতাপাঠ এবং বাইবেল থেকে পদ পাঠ করা হয়। এসময় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং জিয়া পরিবারের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতি কর্মি হিরণ উর রশিদ শান্ত, নুসরাত জাহান করবি ও মনোয়ারা খুশি। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী ও সাম্যবাদী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। নজরুল চর্চার মাধ্যমেই যুবসমাজ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।


সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক বি.এম তারিক উজ জামান, সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ, কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন প্রমুখ।


এদিকে আগত অতিথিরা দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ায় মন্ত্রী মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বক্তব্য রাখছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার। মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী শারমিন আক্তারকে ধমক দিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে চাইলে জেলা পরিষদের প্রশাসকের আহবানে তিনি ফিরে আসেন। বিশেষ অতিথি শারমিন আক্তারের বক্তব্য দেওয়ার পরই প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিলো। এদিকে মন্ত্রীর ধমক খেয়ে চোখ মুছতে দেখা যায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তারের। ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বিকাল ৫টায় শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে নজরুল উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রায় দুই ঘন্ট্যাব্যাপী একের পর এক বক্তব্যে মন্ত্রী চরম বিরক্তবোধ করছিলেন। সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে বক্তব্য রাখেন ড. মুন্সি আবু সাইফ। তাকে বক্তব্য সংক্ষেপ করার জন্য বার্তা দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। তারপরেও তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান।

আলোচনা সভা শেষে সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরুস্কার বিতরণ করেন মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এর আগে মন্ত্রী কবি নজরুলের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিকে নিয়ে বক্তব্য রাখেন। পরে রাতে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি শিল্পীবৃন্দ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।