জীবননগর অফিস :
জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে জমি ও বসতবাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলা। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করার অভিযোগ তুলেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালপাড়া গ্রামে পুরোনো দোতলা বসতবাড়িসহ মোট ৭৭ শতাংশ জমি তিন ওয়ারিশ পরিবারের মধ্যে ভাগ হয়। এর মধ্যে বক্স হালসানা ও তাঁর ওয়ারিশরা ৩৮ শতাংশ, কিনার উদ্দিন হালসানা ও তাঁর ওয়ারিশরা সাড়ে ১৯ শতাংশ এবং আখের আলী ও তাঁর ওয়ারিশরা সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি পান। পরবর্তীতে পুরোনো দোতলা বসতবাড়িসহ ১৭ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
এ বিষয়ে কিনার উদ্দিন হালসানার ছেলে জুয়েল হালসানা দাবি করেন, রেকর্ড অনুযায়ী পুরোনো বসতবাড়িসহ ১৭ শতাংশ জমির মালিক তাঁরা। তাঁর অভিযোগ, মহিউদ্দিন হালসানার ছেলে সিরাজ হালসানা মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি করে ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন। কিনার উদ্দিন হালসানার জামাতা ওসমান গনি বলেন, ওয়ারিশ সূত্রে তাঁর শ্বশুর পুরোনো দোতলা বসতবাড়িসহ ১৭ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু প্রতিপক্ষ মিথ্যা দলিল তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। এতে বাধা দিতে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মহিউদ্দিন হালসানার ছেলে জালাল উদ্দিন হালসানা বলেন, ওয়ারিশ সূত্রে ৭৭ শতাংশ জমির মালিক তিনটি পরিবার। এর মধ্যে কিনার উদ্দিন হালসানা সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি পান। কিন্তু প্রায় ২৩ বছর আগে তাঁরা নিজেদের সম্পূর্ণ জমির পাশাপাশি আরও এক শতাংশসহ মোট সাড়ে ২০ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন। এ সংক্রান্ত দলিল তাঁদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন।
জালাল উদ্দিনের অভিযোগ, জমি বিক্রির পরও কিনার উদ্দিনের ছেলে জুয়েল হালসানা ও তাঁর আত্মীয়স্বজন অবৈধভাবে বসতবাড়িসহ জমি দখল করে রেখেছেন। তাঁদের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জমির দখল বুঝে পাচ্ছেন না। উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এদিকে, মোকসেদ আলী হালসানার ছেলে ওবায়দুল্লাহ হালসানা বলেন, ১৭ শতাংশ জমির মালিক সিরাজ হালসানা। ওই বসতবাড়ির সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমির একটি অংশ আগে কিনার উদ্দিন হালসানার মালিকানায় ছিল, যা পরবর্তীতে সিরাজ উদ্দিন কিনে নেন। ফলে বর্তমানে কিনার উদ্দিনের পরিবারের ওই জমিতে কোনো মালিকানা নেই বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় উভয় পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের বিরোধের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাঁরা মনে করেন, সংশ্লিষ্ট সব দলিল, খতিয়ান ও রেকর্ড সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং আইনানুগভাবে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
জীবননগরের গোয়ালপাড়া গ্রামে ৭৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা



