চুয়াডাঙ্গার পদ্মবিলা ইউনিয়নে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় কৃষকদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষের মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না দিয়ে কোনো কোনো কৃষককে মাত্র ৫ থেকে ১০ কেজি সার দেয়া হচ্ছে। অথচ একজন কৃষকের অন্তত ৪০ কেজি সার প্রয়োজন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে পছন্দের কৃষকদের বেশি সার দেয়া হলেও অন্যদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন পদ্মবিলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকেরা। এ সময় তারা সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীকে অপসারণ এবং চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহের দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া কৃষকদের ভাষ্য, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল আবাদের জন্য এখন সার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলারের কাছে গিয়ে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তিন মাস আগে সারের কার্ড করার পরও অনেকে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। কেউ কেউ দুই মাস অপেক্ষার পরও সামান্য পরিমাণ সার পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। এতে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিএপি ও এমওপি সার নিলাম। কিন্তু আমাকে কেন পটাশ সার নিতে হবে? এই সার কি আমরা খাব? এটি কোন ধরনের বিচার? আরেক কৃষক বলেন, আমরা তিন মাস আগে সারের কার্ড করেছি। কিন্তু এখন সার দিচ্ছে ১০ কেজি করে। তাও বলছে, ভুট্টার সার নেই। আবার বলছে, ধানের সার নাও। কিন্তু ধানের সার আমার প্রয়োজন নেই। এছাড়া ওই ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজার আব্দুল করিম ও শেফালিকে অভিযুক্ত করে তাদের অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান। কৃষকরা জানান, ওই দুজন ব্লক সুপারভাইজার যেসব কৃষকদের কাছে সুবিধা পান শুধুমাত্র তাদেরকে চাহিদামতো সার দিয়ে থাকেন। এছাড়া তারা দাবি করেন, ব্লক সুপারভাইজারদের যোগসাজসে সার ওই ইউনিয়নের থেকে ওই স্থানে পাচার হয়ে থাকে।
কৃষকদের অভিযোগ, সার বিতরণে বৈষম্য করা হচ্ছে। যারা পটল, বেগুন ও আলুসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন, তাদের পর্যাপ্ত সার দেয়া হলেও অন্য কৃষকেরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। কেউ কেউ দাবি করেন, তাদের সার না দিয়ে রাতের আঁধারে বাইরে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও কৃষি বিভাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কৃষকরা আরও বলেন, আমাদের ১০ কেজি করে সার দিলে ফসলের কী হবে? আমাদের অন্তত ৪০ কেজি সার দরকার। সার নিতে গেলে ডিলাররা বলেন, এই কম পরিমাণ সার নিতে চাইলে নাও, না হলে নিয়ো না। কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার দিতে হবে। তা না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে। কৃষকদের ভাষ্য, তারা সারের কার্ড করেছেন জমিতে ফসল ফলানোর জন্য। প্রয়োজনের তুলনায় অল্প সার দিয়ে তাদের চাষাবাদের ব্যয় ও উৎপাদন পরিকল্পনা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
পদ্মবিলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকেরা সার নিতে গিয়ে বারবার ফিরে আসছেন। এতে তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। তার অভিযোগ, ডিলারের কাছে যে সার আসে, তার কিছু রাতের আঁধারে বিক্রি করে দেয়া হয়। ফলে প্রকৃত কৃষকেরা সার থেকে বঞ্চিত হন। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য স্থানীয়ভাবে সার বিতরণের একটি কেন্দ্র করা প্রয়োজন। বর্তমানে পদ্মবিলা ইউনিয়নের কৃষকদের সার সংগ্রহ করতে সুবদিয়া গ্রামে যেতে হয়। এতে তাদের সময় নষ্ট হয় এবং প্রয়োজনের সময় সার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ব্লক সুপারভাইজার আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে কৃষকদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত সার প্রয়োজন, তাই তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা কৃষক দলের সভাপতি সাজিদুর রহমান বলেন, ডিলারদের কারণে কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার না পেলে কৃষকেরা কীভাবে ফসল উৎপাদন করবেন? তিনি পদ্মবিলা ইউনিয়নের কৃষকদের সুবিধার্থে পার্শ্ববর্তী শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন থেকে একজন সার ডিলার নিয়োগ দেয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি পদ্মবিলা ইউনিয়নের কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীকে সরিয়ে দেয়ার দাবি তুলে তিনি বলেন, ওই কর্মীর সঙ্গে কৃষকদের সম্পর্ক ভালো নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সারের সংকট নিরসনে কৃষি বিভাগকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
কৃষকেরা জানান, তারা জমিতে ফসল ফলিয়ে নিজেদের পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের খাদ্য উৎপাদনেও অবদান রাখেন। কিন্তু চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার না পেলে তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে সার বিতরণে কৃষকের চাহিদা, ফসলের ধরন ও জমির পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।