চুয়াডাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও চোরাচালান দমনে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার

চুয়াডাঙ্গা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, যানজট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় মাদক ও চোরাচালান দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক উজ জামানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহারিয়ার ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ পারভেজ রাসেল অবৈধ স্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কেউ আইন অমান্য করবে, তখন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাদের ডিসি মহোদয়কে জানানো উচিত। তবে তার পূর্বে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে এবং নিজেরা উদ্যোগ না দিয়ে, শুধু ছাত্ররা দাবি জানানোর পর সেই বিষয়টি ফরোয়ার্ড করে পাঠিয়ে দেওয়া এটা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের সামিল।

পরিবহন খাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস ও ইজিবাইক মালিক সমিতির সমস্যাগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাস ও ইজিবাইক মালিক সমিতির মধ্যে যেসব বিরোধ বা সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুবিধা ও ভোগান্তির বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে হবে, যাতে যাত্রীরা কোনো ধরনের হয়রানি বা সমস্যার শিকার না হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, অতীতে এক সাংবাদিকের প্ররোচনায় বা উদ্যোগে একজন জেলা প্রশাসক সেখানে গিয়ে ওই সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করেছিলেন। এর পর থেকেই সেখানে অনেক দোকান গড়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যেখানে জেলা প্রশাসক নিজে গিয়ে কোনো স্থাপনা উদ্বোধন করেন, সেখানে সেই স্থাপনা উচ্ছেদ করার সাধ্য কার আছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে তিনি সেখানে যাননি।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, হাসান চত্বর আমাদের একটা আবেগের জায়গা, ওখানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রয়েছে প্লাস জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি রয়েছে। সেই হাসান চত্বর উচ্ছেদ করার পর কি অবস্থা আমাকে টেকেল দিতে হয়েছে আমি খুব ভালো করে জানি। তারপরে এখন গিয়ে দেখেন হাসান চত্বরের কি অবস্থা এই পাশ থেকে দোকান উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, সব ওই পাশে বসেছে।”

প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, আমি ইদানিং কমেন্ট মাঝে মাঝে পড়ি। কিছু কিছু মানুষ এভাবে বলে যে প্রশাসনকে গিয়ে টাকা দিয়ে আসে, কিন্তু প্রশাসনের কোথায় কাকে টাকা দিয়ে আসে এইটা আপনারা কেউ বলেন না।

শহর পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এ কাজে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহরটা সবাই মিলে যদি আমরা পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই, তাহলে আমাদের সবার যার যার তরফ থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা করব, আপনাদেরকে সাথে নিয়ে করব। আপনারা সাথে না থাকলে আসলে আমরা করতেও পারব না।

সরকারি কলেজের আশপাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের ওপর প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক কিছু বিচার-বিবেচনা করতে হয় এখন এই যে এতগুলা মানুষ ওখানে কর্মসংস্থান হচ্ছে, তাদেরকে বলতে হবে যে তাদের তো ভ্রাম্যমান দোকান, তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ফেরি করে বিক্রি করবে, ওইখানে স্ট্যান্ড হয়ে বসে থাকতে হবে কেনো। এমন থাকলে দোকানের পেছনে গিয়ে বসে, সেখানে মেয়েদের টিচ করে, সন্ধ্যার পরে সেখানে মাদকের কেনাবেচা হয়, আনাগোনা বাড়ে, এটা তো ঠিক না। একটা কলেজের পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

এলাকাটি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, আমার একা পক্ষে কোনো কিছু সম্ভব নয়, আপনারা সবাই মিলে এখানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন যে আমার ওই এলাকাটা পরিচ্ছন্ন করা দরকার, আমরা আপনার সাথে আছি। তাহলেই আমরা যাব সেই জায়গাটা পরিচ্ছন্ন করবো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমীন আক্তার, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, এ ছাড়া বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।