স্টাফ রিপোর্টার
‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এই দিবসটি আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়। এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের কোর্ট মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।
পরে ডিসি সাহিত্য মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) বি.এম.তারিক উজ-জামান।
এসময় সভায় উপস্থিত প্রবীণদের গোলাপের শুভেচ্ছা জানানো হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রবীন হিতৈষী সংঘ সংগঠনের সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আইনাল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, প্রবীণরা আমাদের সমাজ ও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবোধ আমাদের জন্য সম্পদ। জীবনের দীর্ঘ সময় তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। তাই তাদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। প্রবীণদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও মানবিক হতে হবে। তাদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, মানসিক প্রশান্তি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো প্রবীণ যেন অবহেলা বা একাকিত্বের শিকার না হন, সেদিকে আমাদের সবাইকে নজর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব সুবিধা যথাযথভাবে প্রবীণদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই প্রবীণদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আমরা একটি মানবিক, সহনশীল ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শাজাহান আলী, সুবর্ণ মানব কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মিম্মা সুলতানা প্রমুখ।



