তিতুদহ প্রতিনিধি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামনগর মসজিদগলি এলাকায় চুয়াডাঙ্গার তরুণ আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। ঘটনার পর হত্যার কারণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রচার হলেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মেস ম্যানেজার মেহেদীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তদন্ত নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা এবং নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের দাবি, আজমুলকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করা হয়। এ ঘটনায় মেহেদীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ভুয়া ভর্তি সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ করেছেন আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন।
কুতুবউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এইচএসসি পাসের পর আজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য ঢাকায় কোচিং করেন। পরে খুলনায় এসে একটি মেসে ওঠেন। সেখানেই মেস ম্যানেজার মেহেদীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিবারের দাবি, মেহেদী আজমুলকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে এবং পরবর্তীতে জাল সার্টিফিকেট দেওয়ার আশ্বাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চুক্তি করে।
ছেলের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ভর্তির জন্য টাকা দেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, আজমুল আসলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর আজমুলকে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির বিষয়টি মেহেদী জানতে পারার পর আগের টাকা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার আজমুল বাড়িতে গেলে মেহেদী ফোন করে টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন কুতুবউদ্দিন। পরে আজমুলকে দ্রুত খুলনায় ফিরে আসতে বলা হয়। আজমুলকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নকল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল। ওই পরিচয়পত্রটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন আজমুলকে মারধরের সময় তার মোবাইল ফোন থেকে মেহেদী তার বাবা কুতুবউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন বলেও দাবি পরিবারের। এ সময় এক লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত খুলনায় আসতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আজমুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মেহেদী নিয়ে নেন এবং পুলিশ সেটি জব্দ করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আজমুল হত্যার ঘটনায় শনিবার রাতে হরিণটানা থানায় মামলা করেন তার বাবা কুতুবউদ্দিন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে রবিন, মবিন, সাগর ও ওবায়দুলের নাম রয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মেস ম্যানেজার মেহেদীর নাম এজাহারে নেই।
আজমুলের মায়ের অভিযোগ, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে মেহেদী ও তার সহযোগীদের ভূমিকা রয়েছে। তিনি মেহেদীসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে মেহেদীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা করছেন নিহতের পরিবার ও শিক্ষার্থীরা।
এদিকে আজমুল হত্যার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে খুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। বর্তমানে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
আজমুল হত্যার নেপথ্যে কি ? মেস ম্যানেজার মেহেদীকে ঘিরে অভিযোগ



