বখতিয়ার হোসেন , ডিঙ্গেদহ প্রতিনিধি
চুয়াডঙ্গা সদর উপজেলার ভান্ডারদহ গ্রামে আগুনে পুড়ে ৩ টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ২’টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত। এদিকে খবর পেয়ে বেলা ১১ টার দিকে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও ক্ষতিগ্রস্ত ৩ ব্যবসায়ীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড নতুন ভান্ডাদহে গতকাল সোমবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে আজিজের ছেলুনের দোকান থেকে আগুনের সুত্রপাত। এখান থেকে পাশের আরো দুটি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৩টি দোকান পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সংযোগে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ সুজন আলী বলেন, রাত আনুমানিক ২ টার দিকে আগুনে পোড়ার শব্দ শুনে তিনি রাস্তায় নেমে আসেন। রাস্তায় এসে দেখা যায় আজিজের ছেলুনের দোকান পুড়ে প্রায় শেষ এবং পাশে থাকা নিজাম উদ্দিনের সার-কীটনাশকের দোকান এবং রকিবুলের ইলেক্ট্রিকের দোকান দাও দাও করে আগুন জ্বলছে। জনগণ আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও মুহুর্তের মধ্যে আগুনে দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায় । এরপর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় অগ্নিকাণ্ডে তাদের আনুমানিক ৪/৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ওহিদুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে আমরা রাত সাড়ে ৩ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আমরা পৌছানোর পূর্বেই দোকানের অনেক মাল পুড়ে যায়। রাত ৪ টার দিকে আগুন সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রণে আসে। বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। আগুনে দোকানের ইলেকট্রনিক মালামাল, কীটনাশক, ঔষধ, সারসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। আগুনে দুই দোকানে এক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৫ লাখ টাকার মালামাল।
অপরদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গতকাল সোমবার বেলা ১১ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার এবং সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিথি মিত্র। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ভান্ডারদহের জলিল মন্ডলের ছেলে নিজাম উদ্দিন, মৃত নজির উদ্দিনের ছেলে রকিবুল ও ছেলুনের দোকানী আজিজকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন। এসময় জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আবেদন করতে বলেন। আবেদন পেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।



