চাঁদা না দেওয়ায় দর্শনায় সিঅ্যান্ডএফ অফিসে হামলা-ভাঙচুর ২৩ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ, প্রাণে বাঁচলেন ব্যবসায়ী

দর্শনা অফিস
দর্শনায় চাঁদার দাবিতে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার  দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা রেলইয়ার্ড সংলগ্ন রিফাত আবাসিক হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এর আগে কয়েক দফায় টাকা দিলেও সম্প্রতি একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেওয়া হয়।
বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশি নিরাপত্তায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন তিনি। তবে শুক্রবার জুমার নামাজের কিছু আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা আসবাবপত্র ও মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
রফিকুল ইসলাম জানান, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে এলে তিনি দ্রুত হোটেলের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। লুটপাট ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে এবং দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।