আলমডাঙ্গা অফিস
সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার কথা পথচারীদের। অথচ আলমডাঙ্গা শহরের ব্যস্ত বাজার এলাকায় ফুটপাতে পা রাখার সুযোগই যেন নেই। কোথাও দোকানের পসরা, কোথাও পণ্যের স্তূপ, আবার কোথাও অস্থায়ী স্থাপনা। বাধ্য হয়ে পথচারীদের নামতে হয় ব্যস্ত সড়কে। এতে সৃষ্টি হয় যানজট, বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে পথচারীদের মুক্তি দিতে এবার মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা শহরের আলিফ উদ্দিন রোড, মাছ বাজার, কাঁচা বাজার, মুরগি বাজার ও পান বাজার এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী।
আলমডাঙ্গা শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোর মধ্যে বাজারকেন্দ্রিক সড়কগুলো অন্যতম। প্রতিদিন এসব এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কেনাকাটা ও নানা প্রয়োজনে আসেন। কিন্তু ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ কমে গেছে।
ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী ফুটপাত পর্যন্ত ছড়িয়ে রাখা, অস্থায়ী দোকান বসানো কিংবা বিভিন্ন ধরনের মালামাল রেখে দেওয়ার কারণে পথচারীদের সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে একই জায়গায় পথচারী, ভ্যান, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে দুর্ঘটনাও।
প্রশাসনের অভিযানে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে রাখা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট ও পণ্যসামগ্রী সরিয়ে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য সতর্ক করা হয়। অভিযান চলাকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের ফুটপাতের নির্ধারিত জায়গা পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের অভিযানে সাময়িকভাবে ফুটপাত উন্মুক্ত হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও কি ফুটপাত দখল হয়ে যাবে? শহরের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনা করেই থেমে না থেকে নিয়মিত তদারকি করা হবে। ফুটপাতের জায়গা নির্দিষ্ট করে সেখানে যাতে কেউ দোকানের পণ্য বা অস্থায়ী স্থাপনা বসাতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি থাকবে।
আলমডাঙ্গার ব্যস্ত সড়কগুলোতে ফুটপাত সত্যিকার অর্থেই পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকলে কমবে সড়কের ওপর মানুষের চাপ, বাড়বে চলাচলের স্বাচ্ছন্দ্য। এখন দেখার বিষয়, দখলমুক্ত ফুটপাত কতটা স্থায়ী হয়।
আলমডাঙ্গায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত তদারকির দাবি স্থানীয়দের



