রকিবুজ্জামান, জীবননগর
জীবননগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। চরম গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। একই সঙ্গে কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও ইন্টারনেট সেবাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে জীবননগর পৌর এলাকা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
কৃষকরা জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ধান ও সবজির ক্ষেতে সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে মিল-কারখানা, দোকানপাট ও শিক্ষার্থীদের অনলাইন কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, দিনে আট থেকে দশবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ব্যবসা সচল রাখতে জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ বিল, অন্যদিকে জেনারেটরের খরচ দুই দিক থেকেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জীবননগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আব্দুল মাজেদ বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভর করেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কখনো ১০ শতাংশ, কখনো ২০, ৩০ বা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো সময় চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহও পাওয়া যায়। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। জাতীয় গ্রিড থেকে যেভাবে বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, সে অনুযায়ীই সরবরাহ ও লোডশেডিং পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।
এদিকে লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং লোডশেডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
জীবননগরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত



