চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই আলমডাঙ্গার নিশাত

নাজমুল হক শাওন, আলমডাঙ্গা
¯^প্ন দেখতে জানলে এবং সেই সপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করলে সফলতা একদিন ধরা দেয়—এমনই এক অনুপ্রেরণার নাম আলমডাঙ্গার মেধাবী শিক্ষার্থী নিশাত| তিনি বারাদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনিরের নাতনি এবং আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুর মাঠপাড়ার ইটালি প্রবাসী রাহাবুল হক ও গৃহিণী নিলিফা ইয়ামিন দম্পতির বড় মেয়ে|
ছোটবেলা থেকেই নিশাতের একটাই সপ্ন ছিল—একদিন সাদা অ্যাপ্রন গায়ে জড়িয়ে একজন চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন| সেই সপ্নকে বুকে ধারণ করে অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি আজ চিকিৎসা শিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছেন| বর্তমানে তিনি সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়ন করছেন|
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই নিশাত ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও হাসিখুশি একজন শিক্ষার্থী| তিনি আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থী| ২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ বৃত্তিও লাভ করেন| বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে তার ছিল সরব অংশগ্রহণ| শিক্ষক-সহপাঠীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়|
এরপর ২০২৩ সালে আলমডাঙ্গা সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন| এই অসাধারণ ফলাফল তার চিকিৎসক হওয়ার সপ্নকে আরও দৃঢ় করে এবং পরবর্তী উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়|
নিশাতের সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, আত্মীয়¯^জন, শিক্ষক ও এলাকাবাসী| তারা মনে করেন, তার এই অর্জন শুধু পরিবারের নয়, আলমডাঙ্গারও গর্ব|
নিশাতের খালামনি অনামিকা আক্তার শিল্পী বলেন, নিশাত ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার সপ্ন দেখত| সে সবসময় খুব মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে| আজ সে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়| আমরা চাই সে একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াক এবং দেশসেরা চিকিৎসকদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুক|
নিশাতের শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিশ্বাস, তার মেধা, অধ্যবসায় ও মানবিক মূল্যবোধ একদিন তাকে একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে| তার এই পথচলা আলমডাঙ্গার অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে|
¯^প্ন থেকে বাস্তবের এই যাত্রা কেবল একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বার্তা—পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো ¯^প্নই অধরা থাকে না| দেশসেরা চিকিৎসক হয়ে মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবেন—নিশাতকে ঘিরে পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আলমডাঙ্গাবাসীর এটাই প্রত্যাশা|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।