য়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ৮০টি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার মেয়াদোত্তীর্ণ, ৩০টির নেই উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, গণপূর্ত বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ; আগুন লাগলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
গণপূর্ত বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে জেলার একমাত্র বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালটি চরম অগ্নিঝুকিতে রয়েছে। হাসপাতালের শত শত রোগী, কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন পুরোপুরি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের অগ্নি নির্বাপক যার অধিকাংশের মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবনের সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২০মে ২০২৬ তারিখে। সেই সাথে হাসপাতালে নতুন দেওয়া ৩০টি সিলিন্ডারের কোনটিরই নেই মেয়াদউত্তীর্ণের কিংবা উৎপাদনের তারিখ। এ সকল অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডারের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন। এতদিন পার হয়ে যাওয়ার পরও সিলিন্ডারগুলো কেন রিফিল করা হয়নি এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেড় মাস আগেই ফুরিয়ে গেছে সিংহভাগ সিলিন্ডারের মেয়াদ। আর এই গাফিলতি ঢাকতে তড়িঘড়ি করে গণপূর্ত বিভাগ যে নতুন সিলিন্ডারগুলো লাগিয়েছে, সেগুলোতে নেই কোনো উৎপাদন কিংবা মেয়াদের উত্তীণের্র তারিখ! ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তাৎক্ষণিক মোকাবিলা করা সম্ভম হবে না।   সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে গা শিউরে ওঠার মতো চিত্র সামনে এসেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবার সর্বশেষ ভরসাস্থল ১০০ শয্যা বিশিষ্ট চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল। এখানে আপৎকালীন সুরক্ষার জন্য মোট ৩০০টি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার বসানো রয়েছে।  হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও জরুরি বিভাগের সামনে ঝোলানো সিলিন্ডারগুলোর মধ্যে ৮০টির মেয়াদের ‘ডেডলাইন’ পার হয়ে গেছে আজ থেকে প্রায় ৪০ দিন আগে। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে আগুন লাগলে এই সিলিন্ডারগুলো দিয়ে আগুন নেভানো যাবে না।  
মেয়াদ শেষের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সম্প্রতি তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নতুন ৩০টি সিলিন্ডার লাগানো হয়। মেয়াদের সিল ও তারিখ ছাড়া এই সিলিন্ডারগুলো আদৌ নতুন, নাকি পুরোনো সিলিন্ডারেই নতুন করে রং করে এবং ভুয়া রিফিল দেখিয়ে সরকারি অর্থ হরিলুট করা হয়েছে তা নিয়ে এখন হাসপাতালের ভেতরে বাইরে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো সরবরাহ, রিফিল এবং স্থাপনের একচ্ছত্র দায়িত্ব গণপূর্ত (পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট- চডউ) বিভাগের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখানে ব্যবহারকারী। কোনো প্রকার সিল-ছাপ্পড় বা মেয়াদের তারিখ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে সিলিন্ডার বসানোর ঘটনা গণপূর্ত বিভাগের তদারকি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম বলেন, গণপূর্ত থেকে যে নতুন সিলিন্ডারগুলো হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে তার প্রতিটি নিচে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া আছে। এটি এক্সপার্ট কোম্পানির সিলিন্ডার তাই হয়তো সিলিন্ডারের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুদ্রিত না রেখে নিচে মুদ্রিত করা হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলামের কথার সুত্র ধরে, অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডারের নিচে দেখা যায়, তাতে শুধুমাত্র ২০২৬ সাল লেখা রয়েছে। নেই কোন মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও উৎপাদন তারিখ। তাহলে কবে নাগাদ এ সিলিন্ডার টি ব্যবহারের অনুপযোগী হবে এবং বর্তমানে ব্যবহার উপযোগী কি-না সেই প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়।
দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সাম্প্রতিক সময়ে শর্ট সার্কিট এবং এসি বিস্ফোরণ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নজির রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এই চরম উদাসীনতা চুয়াডাঙ্গাবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এখানে আসি জীবন বাঁচাতে। কিন্তু এসে দেখছি আগুন লাগলে তা নেভানোর কোনো যন্ত্রপাতি ঠিক নেই। সরকারি হাসপাতালে যদি এমনটা হয়, তবে আমরা যাব কোথায়?
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে যে সকল অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার লাগানো হয়েছে, সেগুলোর অবশ্যই মেয়াদ থাকতে হবে। মেয়াদহীন বা তারিখ ছাড়া সিলিন্ডার দিয়ে কোনোভাবেই শতভাগ অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে মাঝে মাঝেই ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এসে এই সিলিন্ডারগুলো চেক করে যায়। ইতোমধ্যেই হাসপাতালের প্রায় ১২০টি সিলিন্ডার রিফিল করা হয়েছে। আরো যেগুলো বাকি আছে সেগুলো রিফিল করা হবে। তবে নতুন সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়াটি গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ওহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ২৪ জুন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গিয়ে বহনযোগ্য অগ্নি নির্বাপকযত্র পরীক্ষা করেছি। তাতে কিছু সিলিন্ডারের মেয়াদ ২৭ জুন শেষ হয়েছে। আর কিছু সিলিন্ডারে কোন উৎপাদন ও মেয়াদউর্ত্তীণের তারিখ আমরা পাইনি। তখন আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছি সিলিন্ডারগুলো রিফিল করে নিতে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।