স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর ‘ন্যাশনাল রিপোর্ট’ জাতীয় প্রতিবেদন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতাভুক্ত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে। অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজনে ছিল চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন এবং জেলা পরিসংখ্যান অফিস। জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ওয়ালিয়র রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
এই সেমিনারে দেশের চলমান এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য এই শুমারির উপাত্তের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেমিনারে জানানো হয়, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি ২০১৩ সালের শুমারিতে যেখানে মোট অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি, সেখানে ২০২৪ সালের চূড়ান্ত ফলাফলে তা উল্লেখনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি। অর্থাৎ মধ্যবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ব্যাপক হারে। দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সিংহভাগই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত। সেবা খাতে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৩টি (৯০.০২%) এবং শিল্প খাতে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪৯টি (৯.৯৮%)। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে শিল্প খাতে ২৯.৪৪% এবং সেবা খাতে ৫২.৩২% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। একক খাত হিসেবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা খাত দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অংশ (৪০.১৯%) দখল করে আছে। এর পরেই রয়েছে পরিবহন ও সংরক্ষণ খাত (২২.২২%) উৎপাদন/ম্যানুফ্যাকচারিং খাত (৯.৫৭%) এবং আবাসন ও খাদ্য সেবা কার্যক্রম (৮.১১%)।
জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাসকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সংখ্যাগত দিক থেকে কুটির ও মাইক্রো শিল্পের একক প্রাধান্য দেখা গেছে। দেশে মাইক্রো শিল্প ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮২টি (৫৬.৬৭%) এবং কুটির শিল্প ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯টি (৩৮.৭৪%)। এছাড়া ক্ষুদ্র শিল্প ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩২৩টি (৪.২০%), মাঝারি শিল্প ৩৬ হাজার ১১২টি (০.৩১%) এবং বৃহৎ শিল্প রয়েছে ৯ হাজার ২৮৬টি (০.০৮%)।
সেমিনারে আরোও জানানো হয়, ২০২৪ সালের শুমারি অনুযায়ী দেশে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট কর্মসংস্থান বা নিয়োজিত জনবলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জনে, যা ২০১৩ সালে ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। দেশের পল্লী অঞ্চলে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮টি এবং শহর অঞ্চলে ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৪টি। ২০১৩ সালের তুলনায় (পল্লী অঞ্চলে ৫৫ হাজার ৮৯ হাজার ১৯টি এবং শহরে ২২ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৬টি) দেশের গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখ্যযোগ্য হারে বেড়েছে।
এ সময় প্রধান অতিথি লুৎফন নাহার বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঠিক চিত্র ও কাঠামোগত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের লক্ষ্যে এই শুমারি এবং এর পরবর্তী আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সকল জায়গায় এ পরিসংখ্যানটি বা শুমারি সঠিকভাবে পরিচালনা হয় কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। তথ্য উপাত্ত যাচাই করে তারপরে সেটি উপস্থাপন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মুন্সি আবু সাইফ, সদর উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি, দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সরদার আলামিন, দৈনিক খাসখবর পত্রিকার প্রধান সম্পাদক রাজীব হাসান কচি, দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান দপ্তরের কর্মী ও সাংবাদিক বৃন্দরা।
চুয়াডাঙ্গায় ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর ন্যাশনাল রিপোর্ট বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত



