তিতুদহ প্রতিনিধি
দীর্ঘ এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের গেট খুলে দেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। তবে প্রশাসনের সেই উদ্যোগ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গেট খোলার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আবারও ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ইউএনও তিথি মিত্র নিজে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে তালা খুলে দেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানান। কিন্তু তিনি স্থান ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুনরায় গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তারা নতুন প্রশাসক নিয়োগের দাবিতে বক্তব্য দেন, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুর আলীকে হাইকোর্ট পুনরায় দায়িত্বে বহালের নির্দেশ দেন। এ খবর প্রকাশের পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় একটি পক্ষ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ফিরে আসার বিরোধিতা করে আসছে।
এ বিষয়ে তিতুদহ ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী খলিলুর রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এলাকার সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার করেছে। আমরা সেই দলীয় লোকজনকে আবার চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসতে দিতে পারি না।
অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, চাকরির আবেদনসহ নানা কাজে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমি নিজে গিয়ে তালা খুলে দিয়েছিলাম। পরে আবার কারা তালা দিয়েছে, সেটিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় বলছে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত প্রশাসনিক সমাধানের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদ খোলার ৫ মিনিট পরে আবারও বন্ধ, সেবা কার্যক্রমে চরম ভোগান্তি



