স্টাফ রিপোর্টার
উন্নয়ন বঞ্চনার ১৩টি অভিযোগ তুলে চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতাকল বুধবার দুপুর ৩টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, মো. তৌহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ শাহাজাহান আলী বিশ্বাস, আহাদ আলী মোল্লা, মো. সাহাবুদ্দীন, মো. লাবলুর রহমান, মোহা. শাফায়েতুল ইসলাম, আছির উদ্দীন, অ্যাডভোকেট কাইজার জোয়ার্দ্দার, শেখ সেলিমসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জেলার আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় এবং নাগরিকরা বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—চুয়াডাঙ্গা শহরের ওভারপাস নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা; সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যা চালু ও দালালমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা; বিদ্যুৎ বিভাগের হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ; মাথাভাঙ্গা নদীর দখল-দূষণ রোধ ও ব্যারেজ নির্মাণ; শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা; দর্শনা আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর ও রেলবন্দর চালু; পানচাষিদের জন্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন; পানি উন্নয়ন বোর্ডের দখলে থাকা রাস্তা উন্মুক্ত করা; জেলা পরিষদের ঐতিহাসিক লাল ভবনকে ‘স্বাধীনতা ভবন’ ঘোষণা; চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি দমন; আবুল হোসেন স্মৃতি গণগ্রন্থাগার ও শ্রীমন্ত টাউন হল নির্বাচিত কমিটির কাছে হস্তান্তর; বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং দত্তনগর কৃষি ফার্মে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত ও মানবিক চুয়াডাঙ্গা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক শেখ সেলিম জানান, উত্থাপিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২৬ এপ্রিল রোববার সকাল ৯টায় শহিদ হাসান চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি দলমত নির্বিশেষে জেলার সর্বস্তরের নাগরিককে ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটির স্মারকলিপি প্রদান



