স্টাফ রিপোর্টার
ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সীমান্ত দিয়ে পাচার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসাথে আসন্ন পহেলা বৈশাখ এবং ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে গবাদি পশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের যশোর ব্যবস্থাপনায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এই বিশেষ আভিযানিক কার্যক্রম শুরু করেছে।
গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়। তেল পাচার ও মজুদ রোধে সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে।
বিজিবি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখতে এবং পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী এলাকার সম্ভাব্য সব রুটে এ পর্যন্ত ১২১৫টি নিয়মিত ও বিশেষ টহল এবং ১৬৫টি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে সীমান্তবর্তী ১৪টি তেল পাম্পকে। পাম্পগুলোতে নিয়মিত চেকিং এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। এছাড়া দর্শনা স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী যানবাহনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১টি বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়েছে যাতে তেলের অবৈধ চালান পার হতে না পারে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চোরাচালানীরা যাতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু আনতে না পারে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, পহেলা বৈশাখ ও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ১১টি যৌথ নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান সম্পন্ন হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে চলতি ২০২৬ সালের আভিযানিক সাফল্যের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। বিজিবি জানায়, চলতি বছরে এ পর্যন্ত চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬২ লক্ষ ৮৬ হাজার ২১০ টাকার মালামাল জব্দ এবং ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদক বিরোধী অভিযানে এসেছে বড় সাফল্য। এ বছর এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৮ লক্ষ ২৬ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য আটক করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে: ১৪০২ বোতল মদ ও ৯৫৮ বোতল ফেনসিডিল। ১.৮৪৪৫ কেজি হেরোইন ও ২১.৩ কেজি গাঁজা। ১৩৭৫ পিস ইয়াবা এবং ৬৫৪৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট।প্রায় ৪০ হাজার পিসের বেশি ভায়াগ্রা, সেনেগ্রা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ ট্যাবলেট।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ রক্ষা এবং সীমান্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। আমরা সীমান্ত এলাকায় জনবল বৃদ্ধি করেছি এবং প্রতিটি সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কঠোর নজর রাখছি। পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো অনুকম্পা দেখানো হবে না; বরং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজিবি মহাপরিচালকের ভিশন ‘বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’— এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এ পর্যন্ত ১৫টি জনসচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। দেশের সম্পদ রক্ষায় সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে তথ্যের মাধ্যমে বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সীমান্ত পাহারায় কঠোর বিজিবিতেল পাচার ও গরু চোরাচালান রোধে চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ ‘অপারেশন’ শুরু



