চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসকের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক: রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ

স্টাফ রিপোর্টার
ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের দেওয়া সুনির্দিষ্ট কিছু মন্তব্যকে ঘিরে এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ এবং ওই সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর করা কিছু মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।


গত ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁর দেওয়া বক্তব্যের একটি ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ পরবর্তীতে ‘বিএনপি নেটওয়ার্ক-চুয়াডাঙ্গা-২’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই ভিডিও ক্লিপটিতে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারকে অত্যন্ত গুরুগম্ভীর ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায়, ‘‘১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সপরিবারে নিহত হওয়ার পরে কয়েকটা মাস আমাদের দেশটা অভিভাবকহীন বিশৃঙ্খল অবস্থায় চলছিলো। তারই মধ্যে ৭৫ এর ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ মেজর জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করেন। এই তিন তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কোনো অভিভাবক ছিলো না। দেশ ছিলো পুরো বিশৃঙ্খল। বাংলাদেশের দেশ প্রেমিক মানুষেরেরা বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ে।’’

জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ করে জেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের দাবি, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মতো একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে জেলা প্রশাসনের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন একপাক্ষিক ও বিতর্কিত বক্তব্য অনভিপ্রেত। তাদের মতে, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মূল চেতনা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারকে সামনে রেখে যেখানে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ১৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ও নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে আখ্যায়িত করা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।