স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা কর্মসূচিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গানের আসর, পুরস্কার বিতরণ, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, বিশেষ কল্যাণ সভা ও প্রীতিভোজ। কর্মসূচিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, আহত মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার। এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শোভাযাত্রা শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় ডিসি সাহিত্য মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। জাতীয় জীবনে এ দিবসের চেতনা, ঐক্য ও সংহতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক সহযোগিতার চেতনা ধারণ করে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে দেশাত্মবোধক গানের আসর ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় দেশপ্রেমের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল, জেলা কারাগার ও সরকারি শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
এদিকে বিকেল সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত দলের মুখোমুখি হয় জেলা পরিষদ, চুয়াডাঙ্গা সদর পৌরসভা ও অন্যান্যদের সমন্বয়ে গঠিত দল। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অপরদিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিশেষ কল্যাণ সভা ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা পুলিশ আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার। সভায় পুলিশ সুপার দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস দেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিবসের মূল চেতনা হলো জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক সহযোগিতা। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত, দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সব সময় আন্তরিক থাকবে। বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
কল্যাণ সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্, জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিআইও-১, কোর্ট ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন), পুলিশ লাইন্সের রিজার্ভ ইন্সপেক্টরসহ (আরআই) জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।



