স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার পুটিমারি গ্রামে একটি খেলার মাঠ ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু-কিশোর, তরুণ, যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মাঠটি। ফুটবল, ক্রিকেট, দাঁড়িয়াবান্ধা ও হাডুডুসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা খেলাধুলার আয়োজন ঘিরে পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের আমেজ। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় খুশি গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়। ইতোমধ্যে আটটি দলের অংশগ্রহণে ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা। ফুটবল প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর শুরু হবে ক্রিকেট খেলা। পাশাপাশি আয়োজন করা হবে দাঁড়িয়াবান্ধা, হাডুডুসহ গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার।
মাঠটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম সামাজিক পরিবেশ। প্রতিদিন শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বয়স্করাও খেলা দেখতে মাঠে ছুটে আসছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও মাঠে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন। তাঁদের কেউ কেউ আক্ষেপ করে বলছেন, ‘যদি আবার মাঠে নেমে খেলতে পারতাম!’ দীর্ঘদিন পর গ্রামে এমন প্রাণবন্ত খেলাধুলার পরিবেশ ফিরে আসায় আনন্দ প্রকাশ করছেন তাঁরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে মাদকাসক্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া অনেক তরুণও মাঠে এসে খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছেন। এতে তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
জানা গেছে, মাঠটি ব্যবহারের জন্য একাধিক জমির মালিকের কাছ থেকে এক বছরের জন্য জমি লিজ নেওয়া হয়েছে। জমির মালিকদের মধ্যে খলিল হাজির ১৪ কাঠা, মো. পিজিরদ্দিনের ১২ কাঠা, মো. ইসমাইলের ২ কাঠা, মো. মোসলেমের ২ কাঠা, খন্দকার ইসমাইলের ৫ কাঠা, আব্দুল বারিকের ৫ কাঠা, খন্দকার শরীফের ৪ কাঠা, মো. শহিদুলের ১২ কাঠা, জোয়ার্দার চাঁনমিয়ার ১২ কাঠা এবং মোস্তাকের ৫ কাঠা জমি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর চুক্তি নবায়নের বিষয়ে জমির মালিকদের মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে।
মাঠটি খেলার উপযোগী করতে জমি প্রস্তুত বাবদ ২০ হাজার টাকা এবং জমি লিজ বাবদ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। গ্রামের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীরা এ অর্থের জোগান দিচ্ছেন। তবে এখনো ৬০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। মাঠ তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে ব্যক্তিগতভাবে ধার করেও অর্থের সংস্থান করতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংগৃহীত অর্থ থেকে সেই ধার পরিশোধ করা হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের কাছে মাঠটি এখন শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি, আনন্দ ও সামাজিক বন্ধনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। শিশুরা পেয়েছে প্রাণ খুলে খেলাধুলা করার সুযোগ, প্রবীণদের মনে ফিরে এসেছে হারানো দিনের স্মৃতি, আর তরুণদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা।
সব মিলিয়ে পুটিমারি গ্রামের এই খেলার মাঠ যেন দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণের নাম। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগে এ আয়োজন অব্যাহত থাকলে আগামী প্রজন্ম খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হবে এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


