জীবননগর অফিস
জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের বড়ঘাট এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশী যুবক আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পরে আহত বাংলাদেশী যুবক মনির হোসেনকে বিএসএফ ধরে ভারতের অভ্যন্তরে ধরে নিয়ে গেছে। বিএসএফের ছোড়া গুলি তাঁর পায়ে লেগেছে। মনিরকে সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গুলি বর্ষণের ঘটনায় বিজিবিও পাল্টা দুই রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। গতকার শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের বিলের ধারে বড়ঘাট নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ যুবক মনির হোসেন হরিহরনগর উত্তরপাড়া গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকেও আহত যুবককে ফেরত দেয়নি বিএসএফ। এদিকে বিজিবি ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকে বসার আহবান জানিয়ে পত্র দিয়েছে
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বড়ঘাট সীমান্ত এলাকায় হঠাৎ বিএসএফের এক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় মনিরুলসহ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে মনির হোসেনের পায়ে গুলি লাগে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে তাঁকে ধরে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও চার-পাঁচজন জীবন বাঁচাতে পাশের বিলে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মনিরুলসহ ৬/৭ জন স্বর্ণ পাচারের জন্য ঘটনার সময় সীমান্ত এলাকার কাটাতারের বেড়ার কাছে যায়।

এ বিষয়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বলেন, “আমরা সীমান্তে গুলির একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এখনো আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসেনি। বিস্তারিত তথ্য পেলে বিষয়টি আপনাদের জানানো হবে। আমরা ভারতীয় বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। যোগাযোগ সম্পন্ন হলে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে।”
এদিকে সীমান্তে গুলির শব্দ এবং এক বাংলাদেশি যুবককে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।



