আলমডাঙ্গার বেতবাড়িয়া গ্রামের ড. মোহা: মনিরুজ্জামান কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক পদে পদোন্নতি

স্টাফ রিপোর্টার
আলমডাঙ্গার বেতবাড়িয়া গ্রামের ড. মোহা: মনিরুজ্জামান কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। কৃষি বিজ্ঞানী মনিরুজ্জামান ১৯৯৫ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ইঅজও) ‘বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে গত ২৭ অক্টোবর সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে ড. মোহা: মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘পরিচালক (গ্রেড-২)’ পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

ড. মোহা: মনিরুজ্জামান ১৯৬৮ সালের ১৪ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম নূর মোহাম্মদ এবং মাতা মরহুমা মোছা: আনোয়ারা বেগম। শৈশব থেকেই মেধাবী ড. মনিরুজ্জামানের ১৯৭৫ সালে সরাসরি নীলমনিগঞ্জ পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৭৭ সালে কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিকে বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে মনিরুজ্জামান নীলমনিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। যেখানে প্রতি শ্রেণীতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। নিজের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ১৯৮০ সালে তিনি অষ্টম শ্রেণীতে প্রথম গ্রেডে জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন। তিনি সমগ্র খুলনা বিভাগে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এই অভাবনীয় সাফল্যের কারণে সরকার তাঁর থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচ বহন করে তাঁকে ‘রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশীপ’ প্রদান করে। ১৯৮৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন।
মাধ্যমিকে অসাধারণ সাফল্যের পর ড. মোহা: মনিরুজ্জামান চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৮৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি হন। সেশনজটের কারণে ১৯৯৪ সালে বিএসসি কৃষি (অনার্স) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের এই চূড়ান্ত পরীক্ষায় তিনি অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেন।

১৯৯৫ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁর প্রথম পদায়ন হয় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে । চাকরি অব্যাহত রেখেই তিনি উচ্চশিক্ষায় নিজের মেধার পরিচয় দেন এবং উদ্যানতত্ত্ব (ঐড়ৎঃরপঁষঃঁৎব) বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে এমএস ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দ্রুত পদোন্নতি লাভ করেন; যার ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে ‘ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা’, ২০১৫ সালে ‘প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা’ এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিনি ‘মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা’ পদে উন্নীত হন।

কর্মজীবনে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে গত মাসের ২৭ অক্টোবর সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (ঝঝই) সুপারিশের ভিত্তিতে ড. মোহা: মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ইঅজও) ‘পরিচালক (গ্রেড-২)’ পদে পদোন্নতি লাভ করেন । তাঁর এই অনন্য ও গৌরবময় সাফল্যের নেপথ্যে অনুপ্রেরণার বাতিঘর হিসেবে জড়িয়ে ছিলেন তাঁর পিতা মরহুম নূর মোহাম্মদ (নূরু মাস্টার)। তিনি ছিলেন একাধারে তাঁর নিজের বিদ্যালয়ের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ড. মোহা: মনিরুজ্জামান তাঁর চাকরিজীবনে গবেষণার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু দেশ ভ্রমণ করেছেন। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে এ পর্যন্ত তাঁর ১১০টি মূল্যবান গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দাম্পত্য জীবনে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর বড় মেয়ে ফাবীহা তারান্নুম কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বর্তমানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ইজজও) ‘বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা’ হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর ছোট ছেলে মোহাম্মদ তানিম ইবতেসাম মেডিকেল কলেজের সমাপনী বর্ষের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র।


তার জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী, প্রিয় বন্ধু-বান্ধব এবং কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য, যাঁরা বিভিন্ন সময়ে দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে এই কৃষি বিজ্ঞানীর চলার পথকে সহজ করে দিয়েছেন। তাই তাঁদের সকলের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। সর্বোপরি, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এই গৌরবময় অবস্থানে পৌঁছানোর তৌফিক দান করার জন্য পরম করুণাময় মহান আল্লাহর প্রতিও তিনি অসীম কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।