নির্বাচনে হারার জন্য ইরানকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

আজকের চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির আসন হারানোর পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের গুরুত্ব মার্কিন ভোটাররা বুঝতে পেরেছেন। বুধবার (০৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এর একটি অংশ ছিল ইরান, তবে একই সঙ্গে মানুষ ইরানের সঙ্গে আমি যা করেছি তার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। ঐতিহাসিকভাবে এটি আজকের সন্ধ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে কারণ আপনি এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারেন না।’

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। এ নিয়ে ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও মতবিরোধ তৈরি হয়। টাকার কার্লসনের মতো ব্যক্তিরাও এ ইস্যুতে দলের অবস্থান থেকে সরে আসেন।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। আমি ভেবেছিলাম তারা আরও ভালো করবে।’ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যে ৫২টি আসন পেয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পাশাপাশি ১৯৩টি আসন নিশ্চিত করে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথেও এগিয়ে রয়েছে দলটি।

নির্বাচনের আগে নিজের প্রচারণার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের বিশাল সমাবেশ ছিল। আমাদের প্রায় ৩০টি সমাবেশ ছিল। ভেতরে তো জায়গা ছিলই না, বাইরে হাজার হাজার মানুষ ছিল যারা ঢুকতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমি সেই মানুষগুলোকে প্রার্থীদের দিকে স্থানান্তরিত করতে পারব।’

ট্রাম্প জানান, রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তবে সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহামের বোন ডারলিন গ্রাহাম জয়ী হতে না পারায় তিনি হতাশ হয়েছেন। লিন্ডসের মৃত্যুর পর ডারলিনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, ডারলিনের জন্য তিনি ‘খারাপ বোধ করছেন’, কারণ তাঁকে একই সঙ্গে ‘শোক পালন ও প্রচারণা’ চালাতে হয়েছে।

ভোটের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যেও পরিবর্তন দেখা যায়। শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ব্যালটে তাঁর নাম থাকলে রিপাবলিকানরা ‘ভূমিধস জয়’ পেত। হোয়াইট হাউস থেকেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়। পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প জানান, তিনি নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন।

প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে নিজের করণীয় সম্পর্কেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ‘মি. ভিটো’ হয়ে ওঠার এবং তাঁর কাছে পাঠানো প্রতিটি আইন বাতিল করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। ভোট গণনা চলার সময় ‘ভিটো’ লেখা একটি লাল টুপির ছবি প্রকাশ করেও ওভাল অফিসের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে ইঙ্গিত দেন তিনি।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।