চুয়াডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডার থেকে ৫০ পরিবারের মাঝে শাড়ি বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় সনাতন ধর্মাবলম্বী দুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডার থেকে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের জেলা আমির মো. রুহুল আমিন বলেছেন, “হিন্দু সম্প্রদায় ও মুসলমানরা মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। আমরা সবাই ভালো থাকতে চাই। এক সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো থাকল আর অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ খারাপ থাকল, তাহলে দেশ ভালো চলবে না। তাই সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত বস্ত্র (শাড়ি) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে শাড়ি তুলে দেন সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা জেলা পূজা-২০২৬ উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়সহ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, “আপনারা সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। আপনারা ভালো থাকবেন, আর মুসলমানরা খারাপ থাকবে—তাহলে কি দেশ ভালো চলবে? আবার মুসলমানরা ভালো থাকবে, আর আপনারা খারাপ থাকবেন—তাহলেও কি দেশ ভালো চলবে? আমরা সবাই ভালো থাকতে চাই। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডার থেকে তিনি ৩০০টি শাড়ি পেয়েছিলেন, যার সবগুলোই বিতরণ করা হয়েছে। একইভাবে ঈদ উপলক্ষেও ৩০০টি শাড়ি পেয়েছিলেন এবং সেগুলোও বিতরণ করা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর ও সম্প্রীতিপূর্ণ দেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনে বদ্ধপরিকর। দুর্গাপূজার আনন্দ যেন সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ হায়দার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজার আনন্দ নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার ৫০ জন অসহায় ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মাঝে পর্যায়ক্রমে শাড়ি বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডার থেকে পাওয়া উপহারসামগ্রী হাতে পেয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকির হোসেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।