স্টাফ রিপোর্টার
আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর স্ত্রীর পেটে সংক্রমণ ও পুনরায় অস্ত্রোপচার করানোর ঘটনায় চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্টু রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন, আলমডাঙ্গার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিক বাবলু ও তাঁর ছেলে আবিরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে সন্টু রহমান জানান, তাঁর স্ত্রী মোছা. চুমকি খাতুনের গত ২০ আগস্ট আলমডাঙ্গা আনন্দধাম রোডসংলগ্ন আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়। অস্ত্রোপচারের পর অপারেশনের স্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার না করেই সেলাই করা হয়। অস্ত্রোপচার করেছিলেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ। সন্টুর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর থেকেই তাঁর স্ত্রীর পেটে অস্বাভাবিক জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হয়। বিষয়টি ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানালে তিনি সেটিকে গ্যাসের ব্যথা বলে কিছু ওষুধ দেন। কিন্তু ওষুধ সেবনের পরও ব্যথার কোনো উন্নতি না হওয়ায় স্ত্রীকে চিকিৎসক ডা. হাদী জিয়াউদ্দিনের কাছে নিয়ে যান।
ডা. হাদী পরীক্ষা করে পুনরায় আলমডাঙ্গার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ওষুধ লিখে দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চুমকি খাতুনকে আবারও ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তাঁর পেটের জ্বালাযন্ত্রণা না কমায় গত ৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে কুষ্টিয়ার চিকিৎসক ডা. এস এম মুসা করিবের কাছে নেওয়া হয়। কুষ্টিয়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক সনজিনের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করার কারণে পেটের ভেতরে ময়লা জমে সংক্রমণ হয়েছে। পরে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরামর্শ অনুযায়ী গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর স্ত্রীকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন সন্টু।
বিষয়টি আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানালে তিনি চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হওয়া সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তাঁকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা চাইলে তাঁকে আজ-কাল করে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে বাকি টাকা দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। এ ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে মো. সাজাহান, রফিকুল ইসলাম ও মো. বেল্টুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া আরও অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী বাবলু বলেন, চুমকি খাতুনের অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসক ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং অ্যানেসথেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম। অস্ত্রোপচারের পর রোগী সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। পরে যে কোন কারণে হয়তো পেটের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না। তাঁদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তা নেওয়া হয়নি।
আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী গত বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ দিতে এসেছিলেন। বিষয়টি জেনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিজারের পর সংক্রমণ, অর্থ ফেরতের দাবিতে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ



