সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী চুয়াডাঙ্গার রাফিদ

স্টাফ রিপোর্টার
সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী চুয়াডাঙ্গা রুপছায়া সিনেমা হল পাড়ার রাফিদ (২৫)। রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, বাবা, মা-সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। গতকাল রাত ১২টার দিকে রেলষ্টেশন সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা জান্নাতুল মওলা কবরস্থান মসজিদে দাফন করার কথা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিনেমা হল পাড়ার মিনার দম্পতির একমাত্র ছেলে রাফিদ শাহরিয়ার। ছোট বেলা থেকে অত্যান্ত মেধাবী ছিলো রাফিদ। চুয়াডাঙ্গা ভিজে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে নডরডাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ভর্তি হন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলো রাফিদ শাহরিয়ার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে তিনি রাজধানীর মাদানি এভিনিউয়ে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটালে ৫দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে থাকেন। তবে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট থাকাকালীন চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পরপারে পাড়ি জমান। চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, তিনি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালমাসে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছিলেন এবং বাম অংশ থেকে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। নিউরো সার্জন জানিয়েছেন, তার ব্রেনের অর্ধেক অংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছিল। মস্তিষ্কের ঐ অংশে কোনো নিউরন কাজ করছে না এবং কোষগুলো রিকভারি করাও সম্ভব নয়।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত ৯টার দিকে রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাফিদ মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি বাইক হঠাৎ ইউ-টার্ন নেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন রাফিদ এবং বাইক থেকে ছিটকে পড়েন। এতে তাঁর মাথা সরাসরি সড়কের ডিভাইডারে প্রচণ্ড আঘাত পায়। দুর্ঘটনার পরপরই সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রথমে জরুরি বিভাগের ৮নং ওয়ার্ডে ও পরে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের আইসিইউ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকেরা প্রাথমিক ভাবে জানান, আঘাতের তীব্রতায় তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং এতে তিনি গভীর কোমায় চলে গেছেন। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকারসহ একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে যান। তখন রাফিদের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতির কথা জানতে পারেন এবং রাজশাহী মেডিকেলের চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এমন পরিস্থিতিতে রুয়েট প্রশাসনের উদ্যোগে বেলা ১টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাফিদকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে রফিদের অকাল মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গার সর্বস্থরের মানুষের মধ্যে শোক নেমে আসে। গতকাল বিকালে ঢাকায় রাফিদের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে বিকাল ৫ টার দিকে ঢাকা থেকে লাশবাহী গাড়ী চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।