আলমডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী থেকে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী থেকে হায়দার আলী (৬০) নামে এক নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার মাধবীতলা এলাকার নদীর পূর্ব পাশে ঝোপঝাড়ে আটকে থাকা অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পরনের পোশাক ও বিশেষ চিহ্ন দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন তাঁর মেয়ে। নিহত হায়দার আলী আলমডাঙ্গা উপজেলার রংপুর স্কুলপাড়ার মৃত খোদাবক্সের ছেলে। তিনি গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নদীতে গোসল করতে গিয়ে মরদেহের সন্ধান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের মেয়ে নাজমা খাতুন পরনের লুঙ্গি, গেঞ্জি ও কোমরে বাঁধা সুতার চিহ্ন দেখে মরদেহটি তাঁর বাবা হায়দার আলীর বলে শনাক্ত করেন। তিনি গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
নাজমা খাতুন জানান, তাঁর বাবা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ঠিকমতো উঠতে-বসতে ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারতেন না। শনিবার কিছুটা সুস্থ বোধ করায় বাড়িতে গোসল ও খাওয়া-দাওয়া করেন। এরপর বাড়ির আশপাশে হাঁটাচলা করার একপর্যায়ে নিখোঁজ হন।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তাঁর সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে কমলাপুর এলাকায় আব্দুল খালেকের পানবরজের সামনে মাথাভাঙ্গা নদীর পূর্ব পাশে ঝোপঝাড়ে আটকে থাকা একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পায় পুলিশ।
খবর পেয়ে তিনি তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। রংপুর গ্রামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ থাকার তথ্য পেয়ে তাঁর স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তাঁরা এসে মরদেহটি হায়দার আলীর বলে শনাক্ত করেন।
ওসি আরও জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিখোঁজের দুই দিন পর নদী থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হায়দার আলীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ জানা যেতে পারে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।