আলমডাঙ্গায় রোগীবাহী পাখিভ্যান থামিয়ে ছিনতাই

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গায় রোগীবাহী একটি পাখিভ্যান থামিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫-৬ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। এ সময় পাখিভ্যানের চালককে মারধর ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার দিনগত রাত পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার আমানখালী-ভালাইপুর সড়কের খাদিমপুর মোড়সংলগ্ন একটি মেহগনি বাগানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শাহাবুল ইসলাম উপজেলার গাংনী গ্রামের আশাবুল ইসলামের ছেলে। তিনি জানান, রাতে তাঁর মা, ভাবি ও ভাবির মাকে নিয়ে পাখিভ্যানে করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথে খাদিমপুর মোড় পার হয়ে মেহগনি বাগানের সামনে পৌঁছালে সড়কের ওপর বাঁশ ফেলে পাখিভ্যানটির গতিরোধ করা হয়।
শাহাবুল ইসলামের দাবি, এরপর ৫-৬ জন মুখোশধারী ব্যক্তি তাঁদের ঘিরে ফেলেন। তাঁরা পাখিভ্যানের চালক আব্দুর রহিমকে মারধর করেন এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ ৯ হাজার টাকা ও এক জোড়া সোনার কানের দুল নিয়ে যান। হামলাকারীদের সবার মুখ বাঁধা ছিল বলেও জানান তিনি।
লুটপাটের পর দুর্বৃত্তরা চলে গেলে শাহাবুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভালাইপুর মোড়ে গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এ ঘটনায় ওই সড়কে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে রাতের পুলিশি টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। অভিযোগ দায়ের হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বিকেল পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।