দর্শনার ছটাংঙ্গার মাঠে ফের মাটি-বালি উত্তোলনের অভিযোগ, হুমকিতে ফসলি জমি ও সড়ক, প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না কার্যক্রম

দর্শনা অফিস


দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার ছটাংঙ্গার মাঠে আবারও অবৈধভাবে মাটি-বালি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। সংঘবদ্ধ একটি চক্র বিভিন্ন জমি থেকে মাটি-বালি কেটে বিক্রি করায় আবাদি জমি নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্ত ও পুকুরে পরিণত হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ও সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ছটাংঙ্গার মাঠে বিভিন্ন সময়ে মাটি-বালি উত্তোলন চলছে। জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি-বালি কিনে তা ট্রাক্টর, পাওয়ার ট্রলি ও ভেকুর মাধ্যমে কেটে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে কয়েকজনের নেতৃত্বে ফের এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ও অন্যান্য যানবাহন গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শব্দ ও ধুলাবালিতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠসংলগ্ন একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
তাদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ভেকু, ট্রাক্টর-ট্রলি আটক ও জরিমানা করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও মাটি-বালি উত্তোলন শুরু হয়। ফলে কৃষিজমি রক্ষায় স্থায়ীভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ছটাংঙ্গার মাঠে মাটি-বালি উত্তোলনের সঙ্গে বিএনপি ও যুবদলের নাম জড়ানোর বিষয়ে স্থানীয় দলীয় নেতারা বলেন, তাদের দলের কেউ এ কাজে জড়িত নন। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ মাটি-বালি উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, তিনি যোগদানের পরপরই ছটাংঙ্গার মাঠে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। পরবর্তীতে আর মাটি-বালি উত্তোলনের বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তবে অবৈধভাবে মাটি-বালি উত্তোলন করা হলে অবশ্যই অভিযান চালানো হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।