জীবননগর অফিস
জীবননগরে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে তালাক নেওয়ার পরও রেহাই মিলছে না তরুণার। সাবেক স্বামী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে হামলা, মালামাল লুট এবং চেক নিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তরুণার অসহায় বিধবা মা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানিয়েছেন। তরুণার বাড়ি জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালি গ্রামে।
তার বাবা মৃত আব্দুল কালাম কালু। প্রায় ১০-১১ বছর আগে একই গ্রামের জমশের আলীর ছেলে সোহেলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তরুণার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
তরুণার মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সোহেল তার মেয়েকে নির্যাতন করতেন। সন্তান হওয়ার পরও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি। প্রায় নয় বছর কষ্ট সহ্য করার পর শেষ পর্যন্ত মেয়ের সংসার ভেঙে দিতে বাধ্য হন তারা।
তালাকের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন তরুণার মা। তার দাবি, সোহেল তাদের প্রায় দেড় বিঘা আমবাগান কেটে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি পালিয়ে যান। এরপর নিরাপত্তাহীনতায় তারা জীবননগরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
এর কিছুদিন পর তরুণার মায়ের অভিযোগ, তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা, বিক্রির জন্য রাখা শাড়ি, কাপড়, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে তার বড় মেয়ের জামাইয়ের দুটি ব্যাংকের স্বাক্ষর করা চেকবইও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তরুণার মায়ের আরও অভিযোগ, পরে তাদের অগোচরে ওই চেক ব্যবহার করে তার জামাইসহ দুজনের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মামলা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তারা কোনো অন্যায় করেননি। মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এর আগে তরুণার ওপর হামলারও অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে মৃত ভেবে হামলাকারী পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং মাথায় ছয়টি সেলাই লাগে। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পারেননি। এখন একদিকে মেয়ের ওপর হামলার আতঙ্ক, অন্যদিকে মামলা ও আর্থিক ক্ষতির চাপ—সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
পরিবারটির দাবি, হামলা, বাগান কাটার ঘটনা, ঘরে প্রবেশ করে টাকা ও মালামাল নেওয়া এবং চেক সংক্রান্ত মামলার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
জীবননগরে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনে অভিযোগ



