হরিণাকুণ্ড প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ৭ নম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ০৬নং কাছারি তোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির মাঠের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বিশাল ডোবা। বছরের অধিকাংশ সময় ডোবাটিতে পানি থাকে। ডোবার পাশ দিয়ে ছোট্ট একটি সড়ক। সেই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসা করে ৯০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী। মাঠের মধ্যেই এমন জলাশয় থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির মাঠের বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে নিমজ্জিত। পানিতে শেওলাসহ বিভিন্ন ময়লা ও আবর্জনা জমে রয়েছে। ডোবার একটি ছাড়া সবগুলো পাড়ই অরক্ষিত। স্থানীয়রা ডোবার মধ্যে সারি সারি পাটের জাগ দিয়ে রেখেছেন। স্কুলের টিফিনের সময়ে ছোট ছোট শিশুরা দৌড়ে গিয়ে পাটের জাগে গিয়ে উঠছে। স্কুলটিতে একটিমাত্র ভবনের তিনটি রুমে দুই শিফটে ২জন শিক্ষক ও ৪ জন শিক্ষিকা মিলে পাঠদান করেন ৯০জন শিক্ষার্থীর। স্কুলে আসা-যাওয়া এবং খেলাধুলার সময় শিক্ষার্থীদের এই জলাশয়ের আশপাশ দিয়ে চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলার মাঠ। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানে মাঠের ভেতরেই এমন বিশাল ডোবা থাকায় সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
আরাফাত হোসেন নামে ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, স্কুলের সামনে ডোবা। আমরা খেলাধুলা করতে পারিনা। আঙিনায় ঘুরতে ফিরতে ভয় পায়। কখন যেন দুর্ঘটনা ঘটে।
পিন্টু আলী নামে এক অভিভাবক বলেন, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। বর্ষাকাল এলেই চিন্তা বাড়ে, কখন যেন কার বুকের ধন পানিতে পড়ে যায়। কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ডোবাটি ভরাট করে মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার জন্য উপযোগী করা অথবা ডোবার চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকাল এলেই আমরা শিক্ষকরা মিলে বাচ্চাদের সবসময় পাহারা দিয়ে রাখি। এসময় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। আমরা আতঙ্কিত থাকি কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান বসির উদ্দিন বলেন, কীভাবে স্কুলের মাঠের ডোবাটি ভরাট করা যায় সে বিষয়ে ইতোমধ্যে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আশা করছি এবছর বর্ষা মৌসুম শেষ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আমি ওই ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি। চলতি সপ্তাহে বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করবো। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হরিণাকুণ্ডুর কাছারি তোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে বিশাল ডোবা শিক্ষার্থীর চলাচলে চরম ঝুঁকি, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শিক্ষক-অভিভাবক



