দর্শনা অফিস
দর্শনায় অপহৃত এক স্কুলছাত্রকে রাজশাহী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে অপহরণচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দাবি করে ওই কিশোরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। উদ্ধার হওয়া কিশোর নাঈম উদ্দিন (১৪) দর্শনার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের প্রতাপপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. গাফফারের ছেলে। সে মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বাড়ির সামনে খেলতে বের হয় নাঈম। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে দর্শনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ২৩ আগস্ট ভোরে নাঈমের বড় ভাই মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে কয়েকটি ছবি পাঠানো হয়। ছবিতে নাঈমের মুখ টেপ দিয়ে মোড়ানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। পরে অপহরণকারীরা ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর নাঈমের মামা মো. আব্দুল আলীম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মুক্তিপণের জন্য অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৫-এর রাজশাহী সদর কোম্পানি অভিযান শুরু করে। পরে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নাঈমকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণচক্রের মূলহোতা মো. সুমন খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পৃথক অভিযানে বোয়ালিয়া থানার স্বর্ণপট্টি এলাকা থেকে অপহরণচক্রের আরেক সদস্য মো. রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাদের দর্শনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, গত রবিবার রাজশাহী র্যাব-৫-এর সহযোগিতায় অপহৃত কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে গ্রেপ্তার আসামিদের দর্শনা থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মুক্তিপণ দাবি করে হত্যার হুমকি দর্শনার অপহৃত স্কুলছাত্র রাজশাহী থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২



