স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় এলিট স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপদেষ্টা পরিষদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় জেলা শহরের সাহিদ গার্ডেনে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এলিট স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান শরীফুজ্জামান শরীফ। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ মোঃ মাহবুবুল আলম এবং গীতা পাঠ করেন ধুতুরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার গোস্বামী।
সভায় প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, এ আয়োজন নিছক পরিচিতি কিংবা মতবিনিময় সভা নয়, এটি একটি বৃহৎ স্বপ্নের আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা। চুয়াডাঙ্গায় আধুনিক, মানবিক, নৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে। এলিট স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি প্রতিষ্ঠান। দল-মত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশা নির্বিশেষে সবার সন্তান এখানে সমান সুযোগ পাবে। মেধাবী ও প্রতিভাবান এতিম-দুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থাও থাকবে।
প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা তুলে ধরে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘খবধৎহ, খবধফ, ঝঁপপববফ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের শেখা, চিন্তা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও সফলতার জন্য প্রস্তুত করা হবে। প্রাথমিকভাবে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে বড় ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, লাইব্রেরি, আইসিটি ল্যাব, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি ক্যাডেট কলেজের আদলে শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শরীফুজ্জামান আরো বলেন, নার্সারি থেকে কার্যক্রম শুরু করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্য রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা, হাতের লেখা, ইংরেজি ও আরবি ভাষা শিক্ষাসহ শিক্ষার্থীর আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকবে। শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। রিটেন, ভাইভা ও ডেমো ক্লাস তিন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নির্বাচন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা মনিটরিং, ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একা কোনো শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে না। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী করছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন থাকতে হবে। আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে নিতে চাই।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এলিট স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতামত দেন। বক্তারা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশ, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব এবং অভিভাবক-শিক্ষক সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তারা। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এসময় এলিট স্কলার্স স্কুল এন্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাসেম অনুরাগীর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট হেমায়েত উল্লাহ বেল্টু, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. মোফাজ্জল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, মেহেরপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান মালিক, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু, সংস্কৃতিকর্মী সরদার আলী হোসেন, শিক্ষানুরাগী সিরাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী, সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস, চিকিৎসক ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন, অ্যাডভোকেট এম. শাহজাহান মুকুল, চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিরণ উর রশিদ শান্তসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নিমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ বি এম আজমল হক ইকবাল, কুশডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম সাইফুল ইসলাম, সৃজনি মডেল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহাদ আলী মোল্লা, বেলগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান, হাজরাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম শামিউল ইসলাম, ভাঙ্গবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, পুলিশ লাইন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আ.ক.ম মইনুল আহসান পলাশ, বিএডিসির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইমদাদুল হক, ওদুদ শাহ ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক বশির আহমেদ, এস এম জোহা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ওমর ফারুক সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
চুয়াডাঙ্গায় এলিট স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপদেষ্টা পরিষদের মতবিনিময় সভা নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা থাকবে, দল-মত নির্বিশেষে সবার সন্তান সমান সুযোগ পাবে



