ডাউকি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কার্যক্র মনা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত নাগরিক সেবা

খন্দকার শাহ আলম মন্টু, আলমডাঙ্গা
আলমডাঙ্গা উপজেলার ৯ নম্বর ডাউকি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কার্যক্রম না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। পরিষদ ভবন, চেয়ার-টেবিলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলেও কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ও কর-সংক্রান্ত সেবা, বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও প্রত্যয়নসহ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া নিয়মিত সেবাগুলো তারা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। বিশেষ করে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর প্রয়োজন এমন কাগজপত্রের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১২ মার্চ ২০২৬ হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে ২২ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের আদেশ এবং আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ এপ্রিল ২০২৬ চেয়ারম্যান তরিকুল রহমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে এরপরও তিনি নিয়মিত পরিষদে বসতে বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি। ফলে নাগরিক সেবার সংকট অব্যাহত রয়েছে।
ডাউকি ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “গত ২৮ এপ্রিল সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছ থেকে চেয়ারম্যান তরিকুল রহমান দায়িত্ব বুঝে নেন। কিন্তু এরপর তিনি পরিষদে নিয়মিত অফিস করতে পারেননি। ফলে জনগণ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া অনেক কাগজপত্র কার্যকর হয় না। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জন্ম-মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে এসে মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। দ্রুত প্রশাসনিকভাবে পরিষদের কার্যক্রম সচল করার দাবি জানান তিনি।
ডাউকি ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “প্রায় দুই থেকে তিন মাস ধরে আমরা বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে আছি। ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যু সনদসহ নানা কাজে ইউনিয়ন পরিষদে এসে সেবা পাচ্ছি না। আমাদের দাবি, দ্রুত আগের মতো পরিষদের কার্যক্রম চালু করা হোক।”
ডাউকি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কামরুজ্জামান বলেন, “আমি সপ্তাহে চার দিন ডাউকি ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করি। পাশাপাশি আরও দুই দিন কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু চেয়ারম্যানের কার্যক্রম না থাকায় প্রশাসনিকভাবে কোনো দায়িত্ব না দেওয়া পর্যন্ত আমরা অনেক নাগরিক সেবা কার্যকরভাবে দিতে পারছি না।”
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়মিত সেবা পাওয়া গেলে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রত্যয়ন, ট্রেড লাইসেন্স, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা কাজে তাদের সুবিধা হতো। বর্তমানে এসব সেবা পেতে তাদের অন্যত্র ছুটতে হচ্ছে অথবা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
সরেজমিনে বুধবার (১৯ আগস্ট) ডাউকি ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করে এসব তথ্য পাওয়া যায়। এ সময় পরিষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় পরিষদ চত্বরে আগাছাও বেড়ে উঠেছে। একজন গ্রাম পুলিশকে পরিষদ পাহারা দিতে দেখা যায়। নাগরিকদের উপস্থিতিও ছিল না।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার বলেন, ডাউকি ইউনিয়নবাসী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো চিঠি বা নির্দেশনা পাইনি। তবে মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই ইউনিয়নবাসী নাগরিক সেবা পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আদালত ও প্রশাসনিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটিয়ে ডাউকি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হোক। একই সঙ্গে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা দ্রুত চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।