স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নজরুল বর্ষ’ স্মরণীয় করে রাখতে সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে কবির দ্রোহ, প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিস্তার ঘটাতে স্কুল, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সহকারি কমিশনার ফাহাদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল ইসলাম মিলন। সভায় জানানো হয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রতিভাদের মূলধারায় নিয়ে আসতে প্রতিযোগিতাটি মূলত পাঁচটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নাটক ও নৃত্য এই পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩১ আগস্ট সমগ্র দেশে একযোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে।
প্রথম ধাপে ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল পর্যায়ে প্রাথমিক বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। পরে ১৩ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পর্যায়ের সেরা প্রতিযোগীরা অংশ নেবেন জেলা পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায়। এটি চলবে ১ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। জেলা পর্যায়ের বিজয়ীদের নিয়ে পরবর্তীতে ১৩ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগীয় এবং সর্বশেষ ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুপ্ত মেধাগুলোকে খুঁজে বের করা এবং জাতীয় সংস্কৃতির চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সমৃদ্ধ করা। আমরা চাই গ্রাম পর্যায়ে থেকে প্রতিভা উঠে আসুক। ভালো প্লাটফর্ম না পাওয়ার কারণে অনেক প্রতিভারা গ্রামেই থেকে যায়। আমরা চাই নজরুল বর্ষ উপলক্ষে প্রতিভা ছড়িয়ে সমগ্র দেশজুড়ে। সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি.এম তারিক উজ জামান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সী আবু সাঈফ, জেলা জাসাসের সভাপতি শহীদুল বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাজিদ হাসান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সিনিয়র সাংবাদিক মানিক আকবরসহ জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের লক্ষ্যে মতবিনিময়



