ডিঙ্গেদহ প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে গরু কেনার কথা বলে ৯০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীকোল গ্রামের মৃত উম্বাত আলীর ছেলে নাসির (৩৮) গত সোমবার সকালে স্থানীয় এক ব্যাপারির কাছে ৯০ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করেন। ওই টাকা দিয়ে একই দিন ডুগডুগি হাট থেকে নতুন গরু কেনার পরিকল্পনা করেন তিনি। এ উদ্দেশ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মন্টু (৪০)-কে সঙ্গে নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মন্টু কিছুদিন ধরে নাসিরের জমিতে কাজ করতেন এবং তার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
সোমবার সকালে তারা প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি এক আত্মীয়কে দেখতে যান। পরে হাসপাতাল থেকে বড়বাজার এলাকায় পৌঁছালে মন্টু নাসিরকে বলেন, ৯০ হাজার টাকায় ভালো গরু পাওয়া কঠিন হবে। তিনি নিজের পক্ষ থেকেও কিছু টাকা যোগ করে বড় গরু কেনার পরামর্শ দেন।
একপর্যায়ে মন্টু নাসিরকে বড়বাজারে বসিয়ে রেখে সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার কথা বলেন। একই সঙ্গে নাসিরের কাছে থাকা ৯০ হাজার টাকা বড় নোটে পরিবর্তন করে আনার কথা বলে টাকা নিজের কাছে নেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে নাসির মন্টুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বাড়িতে ফিরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের অবহিত করেন।
এ সময় প্রতিবেশী আবুল কালামের ছেলে একরামুল তাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। অভিযোগ দায়েরের উদ্দেশ্যে তারা চুয়াডাঙ্গার দিকে রওনা হলে টাউন ফুটবল মাঠ এলাকায় তাদের বহনকারী যানবাহনের সঙ্গে রয়েল পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে নাসির ও একরামুল আহত হন। পরে তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে নাসিরের ছোট ভাই বাদী হয়ে অভিযুক্ত মন্টুর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ডিঙ্গেদহের শ্রীকোল থেকে গরু কেনার কথা বলে ৯০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক মন্টু



