আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গায় এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন মিনি খাতুন ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য। গতকাল শনিবার বিকাল ৪টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের স্টেশনপাড়া এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তারা এ মুচলেকা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্টেশনপাড়ার বাসিন্দা আলাউদ্দিনের স্ত্রী মিনি খাতুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগ রয়েছে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে। তারা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করে আসছেন। পাশাপাশি থানা পুলিশের সহযোগিতায় মাদক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্নভাবে কাজ করছেন স্থানীয়রা।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার বিকেলে স্টেশনপাড়া এলাকায় মিনি খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে আর জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন। উপস্থিত যুবসমাজ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সামনে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
মুচলেকা প্রদানকারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলাউদ্দিনের স্ত্রী মিনি খাতুন, মিনির ছোট বোন কুটিলা খাতুন, মেয়ে মায়া খাতুন, জামাতা আহাদ আলী ও ছপুর স্ত্রী রিনা খাতুন।
মিনির জামাতা আহাদ আলী বলেন, আমরা আর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়াতে চাই না। সবার মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই। ভবিষ্যতে আমাদের যেন অযথা পুলিশি হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে জন্য স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করছি। আমার শাশুড়ি অসুস্থ ও বৃদ্ধ। তিনি ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারেন না। আমাদের নাম ব্যবহার করে অনেকেই নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে। বিষয়টি সবাইকে নজরে রাখার অনুরোধ করছি।
এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজু আহমেদ, পৌর যুবদলের সদস্য লিলি, সজিব ও সজল এবং ছাত্রদলের আকাশ, রাফিদ, স্বপন, রাজন, নাঈম, আমানসহ অনেকে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজু আহমেদ বলেন, মিনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর কঠিন প্রতিরোধের কারণে তারা আজ মাদক ব্যবসা ছেড়ে সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইছেন। তাদের একটি সুযোগ দেওয়া মানবিক কর্তব্য। তাই তারা মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসায় আর জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মাদকবিরোধী এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
আলমডাঙ্গায় এলাকাবাসীর প্রতিরোধে মাদক ব্যবসা ছাড়ার মুচলেকা দিলেন মিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা



