তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, মেহেরপুর
নিয়মের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ বোর্ডের সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মাদ্রাসায় পাঁচটি পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর গাংনী উপজেলার করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান ও মাদ্রাসার সুপার আবু জাফরের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক প্রার্থী বাছাই করে যে প্রার্থী বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই নিয়োগ দিয়েছে এই কমিটি।
জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর আয়া, নিরাপত্তাকর্মী, ল্যাব সহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কাগজপত্রে ১৭ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও তা কোথায়, কখন ও কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কেউই কিছুই জানেন না। নিয়োগ প্রাপ্তদের ২১ অক্টোবর যোগদানের কথা থাকলেও জটিলতার কারণে কেউ এখনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। স্থানীয়রা নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে একাধিকবার অনুরোধ করলেও মাদ্রাসার সুপার আবু জাফর তা দেখাতে রাজি হননি। এমনকি প্রতিষ্ঠানে গিয়েও তার দেখা মেলেনি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ল্যাব সহকারী পদের প্রার্থী করমদি মাঠপাড়ার রাসেল মাহমুদ জানান, তিনি নিজে ল্যাব সহকারী পদের জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। সে টাকা দিতে না পারায় তার চাকরী হয়নি। নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্রে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব মোছা. শামসুন্নাহার বলেন, ফলাফল শিটে থাকা স্বাক্ষরটি তার নয়। পরীক্ষা কবে, কোথায় ও কীভাবে হয়েছে সে সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই বলে তিনি জানান।
মাদ্রাসা সুপার আবু জাফর জানান, সকল নিয়ম মেনেই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি কুচক্রীমহল বৈধ নিয়োগকে অবৈধ বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিজির প্রতিনিধি অবগত আছেন এবং সাংবাদিকদের এ নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।
গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, নিয়োগ কমিটি যে প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিয়েছে, তা সঠিক নিয়মে হয়নি। গোপনে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই, এমনকি নিয়োগ কমিটির সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়নি। পরে শুধু বেতন বিলে স্বাক্ষরের জন্য কাগজপত্র তার কাছে আনা হয়েছিল। নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ডিজির প্রতিনিধির অনুমোদন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ইতিমধ্যে বাতিল করেছে।
গাংনীর করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার নিয়োগে মোটা অংকের টাকা লেনদেন ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ



