স্টাফ রিপোর্টার
জেলার সড়ক নিরাপত্তায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের গৃহীত ৯টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবিতে জেলা বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা বাদুরতলা সংলগ্ন জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হাসান ঈমাম বকুল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসনের নেয়া ৯টি সিদ্ধান্ত পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি হাসান ইমাম বকুল। বক্তব্যে জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা জেলার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গত ২৩ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সড়কে অবৈধযান ইজিবাইক, পাখি ভ্যান আলমসাধু, লাটা হাম্বা, থ্রি হুইলার জাতীয় যান চলাচল রোধে ৯টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দীর্ঘ এক মাস পরিয়ে পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের গৃহীত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
গৃহিত ৯টি সিদ্ধান্তসমূহ হলো : উপজেলা ও পৌরসভা ভিত্তিক রঙের ব্যবহার: ইজিবাইক চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে এলাকাভিত্তিক আলাদা রঙের প্রস্তাব করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় কমলা, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় নীল, আলমডাঙ্গায় সবুজ, দামুড়হুদায় খয়েরি এবং জীবননগর উপজেলায় হলুদ রঙ নির্ধারণ করে ইজিবাইক পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে। অনুমতি ও ফি নির্ধারণ: ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে দৌলতদিয়া গ্রামকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার আওতাভুক্ত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আবেদনকারীর পৌর এলাকার নাগরিকত্ব ও নির্ধারিত রঙ নিশ্চিত করে নীতিমালা অনুযায়ী ফি গ্রহণপূর্বক অনুমতি প্রদান করা হবে।
রিজার্ভ যাত্রী পরিবহন: উপজেলা এলাকা থেকে বিশেষ প্রয়োজনে রিজার্ভ যাত্রী নিয়ে জেলা শহরে প্রবেশের অনুমতি থাকবে। তবে ফেরার পথে স্থানীয় লোকাল যাত্রী পরিবহন করা যাবে না; খালি গাড়ি নিয়ে নিজ এলাকায় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ: নির্ধারিত রঙ ও নিবন্ধনবিহীন থ্রি-হুইলার (সিএনজি), অটোটেম্পু, ইজিবাইক, লাটাহাম্বার, পাখিভ্যান ও ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল ব্যবহার: ঢাকাগামী ও ঢাকা হতে আগত পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বড়বাজার কাউন্টার ও অনুমোদিত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে না। উক্ত সময়ে যাত্রী পরিবহনে চুয়াডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
শ্রমিকদের পোশাক ও পরিচয়পত্র: মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের তদারকিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট পোশাক ও আইডি কার্ড বহন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তদারকিকালে কোনো যাত্রী বা চালকের সাথে অসাধচরণ বা হয়রানি করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স ও রুট পারমিট বাধ্যতামূলক: নিবন্ধন, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিট ছাড়া কোনো অটোটেম্পু বা থ্রি-হুইলার চলাচল করতে পারবে না। এ বিষয়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সড়ক সম্প্রসারণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হাটকালুগঞ্জ ইমরান ফিলিং স্টেশন থেকে নীলার মোড় পর্যন্ত বাইপাস সংযোগ স্থাপন এবং সড়ক অন্তত ১৮ ফুট প্রশস্ত করার তাগিদ দেয়া হয়। এছাড়া সড়কের উভয় পাশে ৩ মিটার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও চুয়াডাঙ্গা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দরা জানান, গত ২৩ জুনের সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার সড়কগুলোতে যানজট ও দুর্ঘটনা জনিত ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে ও সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে অতি দ্রুত জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গৃহিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈন উদ্দিন মুক্ত বলেন, আমরা আমাদের চুয়াডাঙ্গা শহরে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এখানে চুয়াডাঙ্গা থেকে জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা থেকে ভালাইপুর, আসমান খালি, আলমডাঙ্গা প্রত্যেকটা জায়গায় আমরা মাইকিং করছি তিন দিন ধরে। চুয়াডাঙ্গার ইজিবাইকগুলো নিজের দায়িত্বে এসে রেজিস্ট্রেশন করবে এবং শহরে চার্জিং মুক্ত রাখার জন্য আমাদের সহযোগিতা করুন। এইগুলো আমরা মাইকিং করেছি। চুয়াডাঙ্গা থেকে থ্রি হুইলার গুলো এমন ভাবে যাওয়া আসা করে আমাদের বাসের কোন যাত্রী থাকে না। আমি পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানানোর চেষ্টা করব। চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ৫০০ সিএনজি আছে। এই সিএনজি গুলোর যেন রেজিস্ট্রেশন করা হয়। আমরা দেখেছি ট্রাফিক পুলিশ জীবননগরে অবৈধ মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। অথচ সেখানে রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশন বিহীন ত্রিহুইলার রয়েছে। তাদেরকে পুলিশ আইনের আওতায় আনছে না। চুয়াডাঙ্গা শহরে ৩২ টা পাকা রাস্তা আছে। সিএনজি, ইজিবাইক এইগুলো যেন ওই রাস্তা থেকে যাত্রী নিয়ে শহরে আসে। শহর থেকে বাসে করে যাত্রী আসা যাওয়া করবে এটাই আমরা চাই। জেলা প্রশাসন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটি যেন অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ- সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল রনজু ও বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সিনিয়র সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির খসরু সহ জেলা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দরা।
থ্রি হুইলার, ইজিবাইক ও আলমসাধু চলাচলে জেলা প্রশাসনের গৃহীত ৯টি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন



