স্টাফ রিপোর্টার
জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর আঁখি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খাতুনকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে একমাত্র আসামী আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। সোমবার দুপুরে আসামীর উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চুয়াডাঙ্গার বিচারক ( জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম। রায় ঘোষনার পর দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আবুল হোসেন ফটিককে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেলা কারাগারের পাঠানো হয়। দন্ডিত আসামী ভ্যানচালক আবুল হোসেন ওরফে ফটিক জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন (১০), আছিয়া খাতুন (৮) ও প্রতিবেশী শিশু হুযাইফা (৭) এবং সিনহা খাতুনকে নিয়ে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। এদিন বেলা ১২টার দিকে আছিয়া ও তার সঙ্গীরা বাড়ি ফিরে তাদের মাকে জানায়, মাঠে শাক তোলার সময় এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর ভ্যান রেখে তাদের কাছে আসে। সে মরিয়মকে শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুট্টা ক্ষেতের দিকে নিয়ে যায় এবং বাকিদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলে। দীর্ঘ সময় পর লোকটি একা ফিরে এলে মরিয়মের কথা জানতে চাইলে সে জানায়, মরিয়ম একটু পরেই আসবে। সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও প্রতিবেশীরা মাঠের দিকে গিয়ে স্থানীয় আলী হোসেনের ভুট্টা ক্ষেতে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম তদন্ত শেষে জীবননগরের গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
এ মামলায় একমাত্র আসামী আবুল হোসেন ওরফে ফটিক চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিসিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্কীরোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এছাড়া, আবুল হোসেন ওরফে ফটিকের ডিএনএ টেস্ট পরীক্ষা করা হলে সেটিও পজিটিভ রিপোর্ট আসে। আসামীপক্ষে স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী ওহিদুজ্জামান মুকুল বলেন, এ রায়ে আসামীপক্ষ সংক্ষুদ্ধ। ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে যাবো। সেখানে ন্যায় বিচার পাবো আশা করি।
চুয়াডাঙ্গার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. এমএম শাহজাহান মুকুল জানান, ৩১ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষগ্রহন শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
জীবননগরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে আসামী আবুল হোসেনের মৃত্যুদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা



