দামুড়হুদা অফিস
দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন সচল এবং স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা। কর্মসূচির একপর্যায়ে প্রায় দুই ঘণ্টা জয়রামপুর স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রাখা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একসময় এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার শিকার। আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি না থাকায় প্রতিদিন শত শত যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি জনবল সংকট, টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা না থাকা এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা অবিলম্বে জয়রামপুর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু, প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন সচল এবং স্টেশনের সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের নামে পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করলেও তারা স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন না। তারা কোথায় কর্মরত এবং কেন স্টেশনটি কার্যত জনবলশূন্য অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধন চলাকালে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস জয়রামপুর স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ট্রেনটির গতি রোধ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেনটি স্টেশনে আটকে থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীসহ শতাধিক যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের দাবিগুলো কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজসহ সব দাবি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। অথচ অবহেলার কারণে স্টেশনটি তার গুরুত্ব হারাতে বসেছে। আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ, টিকিটিং ব্যবস্থা, জনবল নিয়োগ ও স্টেশনের উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
খবর পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনাদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। এগুলো যৌক্তিক দাবি। বিষয়টি যথাযথভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে। আপনারা আমার কার্যালয়ে এসে বিস্তারিত আলোচনা করুন এবং স্মারকলিপি দিন। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
ইউএনওর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়া, হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী, রেলওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। মানববন্ধন পরিচালনা করেন জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক লাজীব আক্তার সিদ্দিকী।
জয়রামপুর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজসহ ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, ইউএনওর আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত



